অনলাইন ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর।। লোকসভা ও রাজ্যসভায় ইতিমধ্যেই পাস হয়ে গিয়েছে বিতর্কিত দুটি কৃষি বিল। সংখ্যাধিক্কের জোরে যতই সংসদের ভিতরে বিল দুটি পাস করিয়ে নিক কেন্দ্র। বাইরে এই বিল দুটির বিরুদ্ধে কোমর বেঁধেছে দেশের তাবড় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এই বিলকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমে জোরালো হচ্ছে বিরোধী প্রতিবাদ। গত শুক্রবারের ভারত বনধ ছাড়াও এই বিলের প্রতিবাদে দেশজুড়ে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলি। প্রতিবাদে চাষের জমি ছেড়ে রাজপথে, রাস্তায়, রেললাইনে নেমে এসেছেন দেশের কৃষকরা।
কৃষি বিলকে ‘কৃষক বিরোধী’ তকমা দিয়ে শনিবারই বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছে পঞ্জাবের অকালি দল।গোটা ঘটনা ক্রম যেদিকে যাচ্ছে তাতে ক্রমে চাপ বাড়ছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের উপর। এই অবস্থায় তাই আর কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে চাইছেন না প্রধানমন্ত্রী। যেখানেই সুযোগ পাচ্ছেন কৃষি বিলের গুণগান গেয়ে বেড়াচ্ছেন। রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও তিনি তুলে আনলেন কৃষি বিল প্রসঙ্গ। করলেন কৃষকদের মন পাওয়ার চেষ্টা। এদিন তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদাহরণ দিয়ে কৃষকদের কৃষি বিলের উপকারিতা বোঝানোর চেষ্টা করেন।গল্পের ছলে এদিন কৃষকদের মন পেতে চেষ্টা করেছেন মোদি। বলেছেন, ‘বলা হয় মাটির সঙ্গে যার যোগ আছে সে যেকোনও রকম ঝড়ের মোকাবিলা করতে পারে।
করোনার এই সংকটকালেও নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন কৃষকরা। কৃষকরাই আমাদের আত্মনির্ভরতাঁর আধার’। এদিন তিনি বলেন, কংগ্রেস যদি মহাত্মা গান্ধির নীতি মেনে চলত তাহলে আজ ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার ডাক দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই পড়ত না। কৃষি বিলের সুফল বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, বাজার থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ উঠে গেলে কৃষকরা সরাসরি বেসরকারি সংস্থার কাছে ফসল বেচার সুযোগ পাবেন। যাতে আদতে তাঁদেরই লাভ হবে। এদিন মোদি বলেন, ‘আগে মান্ডির বাইরে ফসল বেচতে পারতেন না কৃষকরা। অনেক সময় তাঁদের ফসল বাজেয়াপ্ত করা হত। এখন সরাসরি ফাইভ স্টার হোটেলেও ফসল বেচতে পারবেন কৃষকরা।’