অম্বাবুচী : উপনির্বাচনের টানটান উত্তেজনার মধ্যেই লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে মহিলাদের সিঁদুর খেলা

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৩ জুন।। অম্বাবুচী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবছরও আগরতলায় লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে ভক্তদের ভীড় লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে মহিলাদের সিঁদুর খেলা। অম্বাবুচী উপলক্ষে মেলাও বসেছে। যদিও উপনির্বাচন হওয়ায় শহরের টানটান উত্তেজনার দরুন মেলা জমেনি। আশা করা যায় আগামীকাল থেকে জমে উঠবে মেলা। লোকসমাগম বাড়বে।

প্রসঙ্গত, অমাবতী/অমাবচী/অম্বাবুচী বলতে সোজা ভাষায় আমি যা বুঝি তা হলো বসুমতীর রজঃস্রাবের সময়। সনাতন ধর্মালম্বীরা বসুমতীর ঋতুমতী থাকাকালীন সময়টুকুকে অম্বাবুচী বলে থাকেন। আসামের কামাক্ষ্যা মন্দিরই এর প্রধান উৎপত্তি স্থল। এখানেই সতীর গর্ভ ও যোনি পড়েছিল বলে মনে করা হয়।

আমরা সাধারণেরা যাদের ধর্মজ্ঞান নাই বললেই চলে শুধু আঞ্চলিক প্রথা বা সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করেই বার মাসের পার্বণ গুলো উদযাপন বা পালন করি সেগুলোর মধ্যে অমাবচীও একটি। তবে একেক অঞ্চল বা পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম আছে। আসলে সনাতন ধর্মের কোন প্রবর্তক নেই বলেই এর কোন নির্দিষ্ট নিয়ম পালনের নির্দশনাও নাই। প্রকৃতি থেকে উঠে আসা নিয়ম-নীতি আর বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই এই ধর্মের জীবনাচারণ।

যেমন এই অমাবচীর নিয়ম বিয়ের আগে এবং পরে দুই ভাবে দেখে আসছি। যেহেতু হিন্দুরা মনে করেন অমাবচীর এই তিনদিন মা বসুমতী বা ধরিত্রী ঋতুকালীন অবস্থায় বিরাজ করেন সেহেতু এই সময় ধরণীকে আঘাত করা যাবে না।

তাই যে যতটুকু সম্ভব মাটিকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। আমাদের গ্রামের প্রতিটা হিন্দু পরিবারে এই তিনদিনের একদিন মাটিকে যতটা সম্ভব কষ্ট দেওয়া মানে সেদিন কোন রকম কৃষিকাজ যেমন জমিতে লাঙল, নিড়ানী দেওয়া বা গর্ত করে বৃক্ষ রোপন এমন কোন কাজ করে না।

আগে তো সবাই মাটির উনুনে রান্না করত তাই সেদিন অরন্ধন কাটানো হতো। তাই আগের দিন ভাত-রুটি বানিয়ে রাখা হতো । সকালে তুলসী তলায় আম-দুধের নৈবেদ্য দিয়ে তারপর সবাই তা গ্রহনের পর সেই সব ঠান্ডা খাবার খাওয়া হোত দিনভর।
তবে শ্বশুর বাড়ীর নিয়ম ভিন্ন। পরিবারের বিধবাদের জন্য চরম কষ্টের এই তিনদিন। তারা অশৌচ পালনের মত দিন কাটান।

এই তিনদিন অন্ন খান না। কোন রকম গরম খাবার এমনকি চাও খান না। চিড়া-মুড়ি নানা রকম ফলমূল, দুধ , আগের বানানো লুচি-পরোটা খেতে পারেন….
দুধ-সাগু/সূজি-কলা -নারকেল কোঁরা দিয়ে খুব উপাদেয় একটা খাবার তৈরি করেন সেটার লোভ সামলানো দায়!

এই তিন দিনের জন্য আগে থেকে তারা ছোলা ভাজা, কুচো নিমকি ভেজে রাখেন যা ছোটরাও খুব উপভোগ করে। বাড়ীর অন্যান্যদের কোন নিয়ম নেই শুধু যে কোন একদিন তুলসীতলায় আম দুধ নৈবেদ্য দিয়ে সবাই আম -দুধের প্রসাদ পাবে।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?