অনলাইন ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারী।। সংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের জবাব বারবার এড়িয়ে গিয়েছিল মোদী সরকার। কিন্তু এ বার আমেরিকার সংবাদপত্র ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’(New York Times)-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হল, ২০১৭ সালে ইজরায়েল থেকে ফোনে আড়ি পাতার স্পাইঅয়্যার ‘পেগাসাস’(Pegasus spyware) কিনেছিল ভারত।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি (Defense Deal) হয়েছিল ভারত-ইসরাইলের দুই দেশের মধ্যে। সেই চুক্তির আওতায় যে সব প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ওই ক্ষেপণাস্ত্র এবং পেগাসাস স্পাইওয়্যার।
‘দ্য ব্যাটল ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’স মোস্ট পাওয়ারফুল সাইবারওয়েপন’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মোদির সফরের সময়ই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা নজরদারি সরঞ্জাম কিনতে ২০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার) দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হয়েছিল। ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সেই ‘প্রতিরক্ষা চুক্তির’ তালিকায় অন্যতম ছিল ফোনে আড়ি পাতার স্পাইঅয়্যার পেগাসাস। এই পেগাসাস ব্যবহার করেই কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী নেতানেত্রীদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে ২০২০ সালে।
পেগাসাস কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই একযোগে লোকসভা ও রাজ্যসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল তৃণমূল। একাধিকবার বিক্ষোভও দেখায় জোড়াফুল শিবির।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তও শুরু করে। আর এবার মোদি সরকারের পেগাসাস কেনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই ফের সুর চড়াল তৃণমূল। শুক্রবার নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করে, ২০১৭-তে পেগাসাস কিনেছিল মোদি সরকার। এর পরেই পেগাসাস ইস্যুতে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করল তৃণমূল।
INC will seek accountability of the PM & Govt in Parliament on deployment of #Pegasus
We will seek accountability of BJP and Modi government in people’s court.
We also urge upon the Supreme Court to take note of the deception.
This is ‘Treason’!#PegasusSpyware #PegasusGate pic.twitter.com/jsCb2OtVLF
— Randeep Singh Surjewala (@rssurjewala) January 29, 2022
নিউইয়র্ক টাইমের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও গ্রুপ প্রায় এক দশক ধরে “সাবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে তাদের তৈরি নজরদারি সফ্টওয়্যার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকার এবং গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বিক্রি করে আসছে।
ধারাবাহিকভাবে এবং নির্ভরযোগ্যভাবে যে কোনও আইফোন বা অ্যানড্রয়েড ফোনের এনক্রিপ্ট করা কমিউনিকেশন ক্র্যাক করে এই স্পাইওয়্যার।” ওই রিপোর্টে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেটিই ছিল ইসরায়েলে প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর।
প্রধান বিচারপতি এনভি রমণার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গত সেপ্টেম্বেরে সরাসরি কেন্দ্রের যুক্তি খারিজ করে দিয়েছিল। প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘‘আমাদের নাগরিকরা বলছেন, তাঁদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি খাড়া করা যাবে না।
নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষিত থাকা উচিত।’’ ইজরায়েলি স্পাইঅয়্যার কেনা এবং তার সাহায্যে বিরোধী নেতাদের উপর নজরদারির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আরভি রবীন্দ্রনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গড়ে দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে সেই তদন্ত চলছে।