অনলাইন ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি।। ফেডারেল নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে বেশ কয়েক মাস ধরে সহিংসতা চলছে ইরাকে। মার্কিন দূতাবাসগুলোতে একাধিক হামলার ঘটনাকে বাদ দিলে সুন্নি মুসলিমদের একটি কার্যালয়ে এবং বাগদাদে ইরাকি কুর্দিশ রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গত সপ্তাহে গ্রেনেড হামলা হয়েছে।
বাগদাদে দুটি কুর্দিশ ব্যাঙ্কে গ্রেনেড হামলা হয়েছে রবিবার। সোমবারে এক শিয়া মুসলিম ধর্মগুরুর বাড়িতে বন্দুক হামলা হয়েছে।
জানুয়ারির শুরুতে দক্ষিণ পূর্বের মায়সান প্রদেশে শিয়া পার্লামেন্টারি গোষ্ঠীর এক প্রবীণ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। একাধিক হামলার ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে গত অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের ফলপ্রকাশ ঘিরে এসব হচ্ছে।
পরাজিত হওয়ার পরও ক্ষমতার জন্য হামলা চালাচ্ছে দলগুলো। কেউ কোনো হামলার দায় স্বীকার না করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরাজিত দলগুলো নির্বাচনের ফলকে অস্বীকার করতে চাইছে। পরবর্তী সরকার গঠনের সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সাধারণ নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা ঠিক করতে একাধিক দলের মধ্যে মাসের পর মাস দর কষাকষি চলছে।
ইরাকের ফেডারেল নির্বাচনে জয়ী হয়েছে সাইরুন। শিয়া ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সাদরের রাজনৈতিক সহযোগী সাইরুন অন্যদের তুলনায় বেশি আসনে জিতেছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও দল নির্বাচনে জয়ী হয়নি। ৩২৯টির মধ্যে ৭৩টি আসন পেয়েছে তারা।
অন্যদিকে ফাতাহ ও তার শরিকেরা পরাজিত হয়েছেন। এটি শিয়া মুসলিম দল হলেও ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) সঙ্গে যুক্ত। মাত্র ১৭টি আসন পেয়েছে ফাতাহ। যেখানে আগের বার ৪৮টি আসন পেয়েছিল এই দল। প্রথমদিকে পিএমএফ সাধারণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেলেও পরে তা হারিয়ে ফেলে।
নিজের দেশের বদলে ইরানের দিকে বেশি ঝুঁকেছিল পিএমএফের একাংশ। কারণ ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান সবরকম সাহায্য করেছিল। কিন্তু নির্বাচনে দেখা গেল এই সব কারণে ফাতাহ ও তার শরিকদের সাধারণ মানুষ পছন্দ করেননি।
কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরাক-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ফানার হাদাদ জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে জানান, এই গোষ্ঠীর মধ্যে রেষারেষি শিয়া-অধ্যুষিত, জাতিগত-সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম আশঙ্কার কারণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবেদন এবং ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স’-এর মাধ্যমে আর ইরাকবাসীকে ভোলানো যাবে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হচ্ছে।