Omicron: ১০৬ দেশে পৌঁছে গেছে ওমিক্রন, আরেকটা ঝড় আসছে’

অনলাইন ডেস্ক, ২২ ডিসেম্বর|| করোনাভাইরাসের অত্যন্ত সংক্রামক নতুন ধরন ওমিক্রন এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১০৬টি দেশে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পুরো ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়ার কিছু দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ছে গুনাত্মক হারে। জাপানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে একটি ক্লাস্টার থেকে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১৮০ জন।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় প্রধান হ্যানস ক্লুগে ইউরোপের দেশগুলোর জন্য সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, আরেকটা ঝড় আসছে’।

 

 

 

ডব্লিউএইচও বলছে, গত এক সপ্তাহে সারা বিশ্বে যত নমুনার জিন বিন্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তার ৯৬ শতাংশ ছিল ডেল্টা। তবে এই হার আগের সপ্তাহের ৯৯ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম। আর একই সময়ে ওমিক্রনের উপস্থিতি আগের সপ্তাহের ০ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

 

সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কাছে জায়গা হারাচ্ছে। ওমিক্রনের আধিপত্যশীল হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই ভ্যারিয়েন্ট অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রনে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে।

 

 

 

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে রাশিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, ইউক্রেন ও ফ্রান্স।

 

এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৭ কোটি ৬৫ লাখ। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৩ লাখ ৮৪ হাজার।

সিএনএন জানিয়েছে, এখনও দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে গত এক সপ্তাহে কোভিডে আক্রান্তদের ৭৩.২ শতাংশই ওমিক্রনে সংক্রমিত হয়েছেন।

 

স্পেনে কেবল মঙ্গলবারই ৪৯ হাজার ৮২৩ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা মহামারী শুরুর পর থেকে এক দিনের সর্বোচ্চ।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হ্যানস ক্লুগে বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউপোরে ওমিক্রনই প্রাধান্য বিস্তার করবে। রোগী বাড়লে চাপ বাড়বে হাসপাতালেও ওপর, তাতে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

 

সতর্কবার্তা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথাতেও। সামরিক বাহিনীর স্বাস্থ্যকর্মীদের তিনি প্রস্তুত থাকতে বলেছেন, যাতে কোভিড সংক্রমণ বেড়ে গেলে হাসপাতালের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।

 

এই পরিস্থিতিতে মানুষকে সতর্ক করতে সরব হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনাঢ্য ব্যক্তি বিল গেটস। তার আশঙ্কা, দেশে দেশে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে সমগ্র বিশ্ব হয়তো করোনা মহামারির সবচেয়ে খারাপ অংশে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিজের আসন্ন ছুটির দিনের বেশিরভাগ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম টুইটারে একথা জানান বিল গেটস। তার পরামর্শ -‘আমাদেরকে এই সত্য উপলব্ধি করতে হবে যে, আমরা করোনা মহামারির সবচেয়ে খারাপ অংশে প্রবেশ করতে পারি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘ওমিক্রন ইতিহাসের যেকোনো ভাইরাসের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি শিগগিরই বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ছড়িয়ে পড়বে। ’

 

পরে আরেকটি টুইটে বিল গেটস জানান, ‘ওমিক্রনে সংক্রমিত ব্যক্তি ঠিক কতটা অসুস্থ হবে, সেটি আমরা ঠিক জানি না। এমনকি ওমিক্রন যদি ডেল্টার তুলনায় মাত্র অর্ধেক মাত্রায়ও ক্ষমতাসম্পন্ন হয় তাহলেও সেটি ইতিহাসের সবেচেয়ে বেশি সংক্রামক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ করোনার এই ভ্যারিয়েন্টটি খুবই সংক্রামক।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। মঙ্গলবার দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৮ জন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৮১১ জন। এছাড়া করোনা মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার ২৭৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৯৯০ জন মারা গেছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?