অনলাইন ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর।। চুইং গামই রুখে দিতে পারে করোনাভাইরাসকে! লালারসের মধ্যে আটকে রেখে একটি বিশেষ ধরনের চুইং গাম শরীরে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে দেয় না। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এমনই দাবি করা হয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘মলিকিউলার থেরাপি’-তে।
গবেষণা জানিয়েছে, আলফা, বিটা, ডেল্টা-সহ করোনাভাইরাসের সবকটি ‘ভেরিয়্যান্ট’ বা ধরনকেই লালারসে রুখে দিতে পারছে চুইং গাম।
তবে ওমিক্রন-কেও রোখা যায় কি না, তা গবেষকরা এখনও পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পাননি।
এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে মানুষের লালারসে প্রচুর পরিমাণে থাকে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস। তাই চুইং গাম মুখেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে পারে কি না, কতটা সক্ষম এ ব্যাপারে, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল আমেরিকার বিজ্ঞানীদের।
চুইং গাম যে মুখের অভ্যন্তরের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী, তা আগেই জানা ছিল। চুইং গামে ক্যালসিয়াম ও বাইকার্বনেটের মতো যে নানা ধরনের পদার্থ থাকে, জানা ছিল সেগুলি মুখের অভ্যন্তরের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। খুব প্রয়োজনীয়ও। কারণ, এই পদার্থগুলি মুখের অভ্যন্তরে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেয়।
কিন্তু চুইং গাম দিয়ে ভাইরাসকে রোখার উপায় খুঁজে বার করা নিয়ে এর আগে তেমন ভাবে কোনও পরীক্ষা চালানো হয়নি। হয়নি তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য গবেষণাও।
গবেষকরা এই চুইং গাম-টি বানিয়েছেন অভিনব উপায়ে। তাতে মিশিয়ে দিয়েছেন প্রচুর পরিমাণে এসিই-২ রিসেপ্টর প্রোটিন। এ ক্ষেত্রে উদ্ভিদের তৈরি করা এসিই-২ রিসেপ্টর প্রোটিন নিয়েছেন গবেষকরা।
চুইং গামে এসিই-২ রিসেপ্টর প্রোটিন মিশিয়ে দেওয়ার কারণ রয়েছে। মানবশরীর ঢুকে সংক্রমণের প্রাক মুহূর্তে এই প্রোটিনের উপরেই এসে বসে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস। মানবশরীরে কিছু কিছু কোষের উপরে থাকে এই প্রোটিন। চুইং গামে এসিই-২ রিসেপ্টর প্রোটিন মিশিয়ে দিয়ে গবেষকরা চেয়েছিলেন ভাইরাসকে সেখানেই আটকে রাখতে। যাতে তা কোষে ঢুকে পড়তে না পারে। গোটা শরীরে ছড়িয়ে না পড়তে পারে।