উল্লেখ্য, টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং আগরতলার উদ্যোগে এবং রোটারী ক্লাব অব আগরতলা ও রোটারী ক্লাব অব আগরতলা ন্যাচারের যৌথ সহায়তায় আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে কলেজের শিক্ষা সম্মান- ২০২১, উদয়ন ২.০ এবং তিনটি নতুন ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়।
অনুষ্ঠানে কলেজের পক্ষ থেকে আট জেলার ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ডিগ্রী ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজের ৪জন অধ্যাপক ও ডিপ্লোমা সংস্থার ১ জন অধ্যাপককে শিক্ষা সম্মান-২০২১ প্রদান করা হয়। এছাড়া এবছর ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতি ৮ জন এসসি, এসটি, ওবিসি এবং সাধারণ সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং-আগরতলায় যে নতুন তিনটি কোর্স চালুয় হল তা রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে আগামীদিনে নতুন মাইলস্টোন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। বর্তমান এডভান্স টেকনোলজির যুগে তাল মিলিয়ে যেসব টেকনিক্যাল কলেজ তাদের কোর্স কারিকুলামকে পরিবর্তন করছে এটাকে রাজ্য সরকার সমর্থন করে। টেকনোলজির সাথে সাথে টেকনিক্যাল কারিকুলামে যে নতুন নতুন কোর্সগুলি দরকার সেগুলিতে এআইসিটিই জোর দিয়েছে।
যেসব কলেজ এডভান্স কোর্সগুলি চালু করতে চাইছে এআইসিটিই ঐ কলেজগুলিকে অনুমোদন দিচ্ছে। তিনি বলেন, আজ নতুন তিনটি কোর্স যে চালু হল তা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতে জব মার্কেটে যথেষ্ট সহায়তা করবে। টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং আগরতলা টেকনিক্যাল ফিল্ডে যে পরিবর্তনগুলি আনতে চাইছে এটা রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষার বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলা যথার্থই বলেছেন, ‘শিক্ষাই হল সর্ব শক্তিমান অস্ত্র’। ছাত্র সমাজকে নেলসন ম্যান্ডেলার আদর্শ ও পথ অনুসরণ করতে হবে। রাজ্য সরকার টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং-এর পাশে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, দেশে কারিগরী ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আসছে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরী কোর্সগুলিতে পরিবর্তন আনা দরকার। তাহলেই আমাদের ছেলেমেয়েরা উন্নত কারিগরী বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবে। আজ টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনীয়ারিং-আগরতলায় যে নতুন তিনটি কারিগরী কোর্স চালু হল তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এক সময় রাজ্যে কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম ছিল৷ যার জন্য ত্রিপুরার ছেলে-মেয়েদের ব্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই, পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যে যেতে হত। কিন্তু আজকের দিনে আমাদের রাজ্যে এন আই টি টি আই টি আই টি আই, ডিপ্লোমা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইঞ্জিনীয়ারিং কোর্স-এর জন্য প্রাইভেট ইনস্টিটিউশন আছে।
ছাত্রছাত্রীরা চাইলে রাজ্যেই টেকনিক্যাল কোর্সগুলি পড়তে পারে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এ দিশাতেই কাজ করে চলেছেন। তিনি বলেন, এই কলেজের এই তিনটি নতুন কোর্স রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে নতুন পালক যুক্ত করবে। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল কথা হল চরিত্র গঠন। এই শিক্ষা শিক্ষকদের দিতে হবে।
এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী শ্রী চৌধুরী ছাত্রছাত্রীদের স্বামী বিবেকানন্দ ও ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা রাজ্য উচ্চশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা, কলেজ ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়) অধিকর্তা ড. অলক ভট্টাচার্য।
স্বাগত ভাষণ দেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের কো-চেয়ারপার্সন মানসী রায় চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ডিরেক্টর জেনারেল কৃষ্ণ রায়, রোটারী ক্লাব অব আগরতলার সভাপতি অধ্যাপক স্বপন ভৌমিক, রোটারী ক্লাব অব আগরতলা ন্যাচারের সভানেত্রী রত্না মজুমদার সহ বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শ্রীনাথ এই কলেজের নতুন তিনটি কোর্স যথাক্রমে টেকনোলজি ডিপ্লোমা কনস্ট্রাকটিভ অটোমেশন, ডিপ্লোমা ইন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এন্ড মেকানিক লার্নিং এবং ডিপ্লোমা ইন ক্লাউড কম্পিউটিং এন্ড বিগ ডাটা-র আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। অতিথিগণ ২১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৮ জন কৃতি ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করেন।