অনলাইন ডেস্ক, ২০ আগস্ট।। বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর বছর ছিল ২০২০ সাল। এ সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে দেশত্যাগীদের রেকর্ডসংখ্যক সাগর পাড়ির ঘটনা ঘটেছে।জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, এ পথে অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শিবির থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
ইউএসএইচসিআরের নতুন প্রতিবেদন বলছে, ওই বছর ২ হাজার ৪১৩ জনের সাগর পাড়ি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২১৮ জন সাগরে মারা গেছে অথবা হারিয়ে গেছে।‘লেফট অ্যাডরিফ্ট অ্যাট সি: ডেঞ্জারাস জার্নিস অব রিফিউজি অ্যাক্রস দ্য বে অব বেঙ্গল অ্যান্ড আন্দামান সি’ নামের প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয় বৃহস্পতিবার।সেখানে বলা হয়, আগের বছরের চেয়ে ২০২০ সালের সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা ছিল আটগুণ ভয়ংকর।
করোনাভাইরাসের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশ সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে। এ কারণে অনেক শরণার্থী সমুদ্রে আটকে রেখেছে। যা এ অঞ্চলের ২০১৫ সালের ‘নৌ সংকটের’ পর থেকে সবচেয়ে বেশি।
ইউএনএইচসিআরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক ইন্দ্রিকা রাটওয়াতে বলেন, বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের সীমান্তবর্তী দেশগুলো শরণার্থীদের উদ্ধারে এগিয়ে না আসলে সম্মিলিত ব্যর্থতা ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে থাকবে।
নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও গণহত্যার শিকার হয়ে কয়েক দশকে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এ ছাড়া গত দশ বছরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী সাগর পথে মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার দিকে পাড়ি জমিয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, প্রথম দিকে সাগর পাড়ি দেওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগ ছিলেন পুরুষ। কিন্তু এখন নারী ও শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে। পাচারকারীদের দ্বারা তাদের নিপীড়িত হওয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআর।