Haj House: দ্বারকায় হজ হাউস নির্মাণ নিয়ে জোর রাজনৈতিক তৎপরতা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট।। দ্বারকায় হজ হাউস নির্মাণ নিয়ে অল দ্বারকা রেসিডেন্টস ফেডারেশন (এডিআরএফ) যে সাম্প্রদায়িক ভাষা ব্যবহার করেছে তাকে এক বিবৃতি দিয়ে কঠোরভাবে নিন্দা করলেন ১০০ জনেরও বেশি দ্বারকাবাসী। তাঁরা জানিয়েছেন, এডিআরএফ সমস্ত বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্ব করে না, যেমনটা তারা দাবি করেছে।

স্থানীয় পুলিশের কাছে এই বিষয়ে সুয়ো মোটো মামলার দাবি করেছেন তাঁরা। দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ, সম্প্রীতিহানি ও জনবিশৃঙ্খলা ঘটানোর অভিপ্রায় যেভাবে ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। এই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

এদিকে, এডিআরএফ ও হিন্দু শক্তি সংগঠনের দাবি, সেক্টর ২২-এ হজ হাউস নির্মাণের জন্য যে ডিডিএ জমি বরাদ্দ করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে। এই নিয়ে তারা আন্দোলনও করে।

আন্দোলনের সময় স্লোগান ওঠে ‘এক হি নারা এক হি নাম, জয় শ্রী রাম, জয় শ্রী রাম’ এবং ‘ইয়ে ভূমি হামারা হ্যায়, ইসকা ফয়সালা হাম করেঙ্গে’। এডিআরএফের আরও বক্তব্য,”আমাদের করের অর্থ কেন মুসলিমদের জন্য ব্যবহৃত হবে?

মুসলিমদেরই কেন এই ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য এই সুবিধা নেই কেন?” ফেডারেশনের সভাপতি অজিত স্বামী বলেছেন, দ্বারকায় প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ বাস করেন। যদি হজ হাউস তৈরি হয় তাহলে মিরাট থেকে বাস আসবে এবং তার ফলে ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হবে।

এর ফলে এখানে দাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। হিন্দুদের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে এবং শাহিনবাগ, জাফরাবাদ ও কাশ্মীরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে দ্বারকায়। এমনটাই অজিতের বক্তব্য। আসল সত্যটা হল, মুসলিমরাই কেবলমাত্র হজে যান। সুতরাং হিন্দুদের জন্য হজ হাউস নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

হিন্দুদের অসংখ্য উৎসবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে এবং সেই অর্থ দেশের মানুষের করের টাকা। হরিদ্বার, এলাহাবাদ, নাসিক ও উজ্জয়নে হওয়া চার কুম্ভমেলাতে প্রচুর টাকা খরচ করে কেন্দ্রীয় সরকার। এলাহাবাদে কুম্ভমেলায় ২০১৪ সালে কেন্দ্র ঢেলেছিল ১১৫০ কোটি টাকা ও উত্তরপ্রদেশ সরকার বরাদ্দ করেছিল ১১ কোটি টাকা।

২০১৫ সালে সীমাস্থা মহাকুম্ভের সময় মধ্যপ্রদেশ সরকারকে কেন্দ্র দিয়েছিল ১০০ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকার খরচ করেছিল ৩৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া আরও বহু তীর্থের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার টাকা ঢালে প্রতি বছর। এদিকে, বিভিন্ন শহরে হজ হাউসগুলি শিক্ষার কাজে লাগে এবং যখন হজযাত্রীরা থাকেন না তখন উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হয়।

শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ১০০ জনেরও দ্বারকার বাসিন্দা আবেদন করেছেন, এডিআরএফ যে মেরুকরণের ছক এঁকেছে, ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি করছে তাকে নস্যাৎ করা হোক।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?