অনলাইন ডেস্ক, ৩ আগস্ট।। পূর্ব জেরুসালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় উচ্ছেদের মুখে পড়া ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের নিয়ে অতি স্পর্শকাতর মামলাটিতে কোন স্পষ্ট রায় দেয়নি ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত।
বিবিসি জানায়, সোমবার ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সমাপ্তি টানতে একটি রুলিং দেওয়ার কথা ছিল। তা না করে আপোষরফার আহ্বান জানিয়েছে।
তারা প্রস্তাব দিয়েছে, যে চারটি ফিলিস্তিনি পরিবার শেখ জাররাহতে তাদের বাড়িতে থাকতে পারবে— যদি তারা এটা স্বীকার করে নেয় যে একটি ইসরায়েলি কোম্পানি ওই জমির মালিক ছিল।
আদালতের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭০টিরও বেশি ফিলিস্তিনি পরিবারের ‘সংরক্ষিত ভাড়াটে’র মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে, এবং তারা যদি ভাড়া দেওয়া অব্যাহত রাখে তাহলে উচ্ছেদ করা যাবে না। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা এ ধরনের কোন সমাধান আগেও প্রত্যাখ্যান করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট শেখ জাররাহর বাসিন্দা ফিলিস্তিনিদের একটি তালিকা সাতদিনের মধ্যে দিতে বলেছে। যার অর্থ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অন্তত সাতদিন পিছিয়ে দেওয়া হলো।
এ উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মে মাসে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। যার জের ধরে ইসরায়েল ও হামাসের ১১ দিনের রক্তাক্ত যুদ্ধের রূপ নেয়। এ ঘটনায় ২৫৬ ফিলিস্তিনি ও ১৩ ইসরায়েলি নিহত হয়।
ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের একটি অঞ্চল হচ্ছে এই শেখ জাবরাহ। জেরুজালেম শহরের প্রাচীন অংশ ও পবিত্র স্থানগুলোর কাছাকাছিই এই এলাকাটির অবস্থান। এই এলাকার জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে।
এখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার জন্য ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে চেষ্টা করে চলেছে। এই ফিলিস্তিনিরা এখানে বসবাস করছে দশকের পর দশক ধরে, যারা একসময় শরণার্থী হিসেবে এই এলাকায় বাস করতে শুরু করেছিল। পরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অনেক বসতি দখল করে ইসরায়েলিরা।