অনলাইন ডেস্ক, ১ আগস্ট।। কোভিড-১৯ অতিমারিজনিত দেশজোড়া লকডাউনের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে মহিলাদের উপরও। দেশের ১০ জন মহিলার মধ্যে ৯ জন মহিলাই খাদ্য সংকটে ভুগেছে। কম আহার করেছে এবং তার ফলে পুষ্টির স্তর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে নয়া সমীক্ষা। টাটা-কর্ণেল ইন্সটিটিউট ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড নিউট্রিশনের গবেষকরা কয়েকটি সূচক নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখে এই মত দিয়েছেন।
এই সূচকগুলির মধ্যে ছিল খাদ্যের জন্য ব্যয়, খাদ্যতালিকার বৈচিত্র্য ও অন্যান্য পুষ্টিগত সূচক। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশার জেলা স্তরে, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। যাদের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ জানিয়েছে কম খাবার গ্রহণ করার কথা এবং ৯৫ শতাংশ বলেছে যে, তারা খুবই অল্প কয়েক ধরনের খাবার খেতে পেয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, মাংস, ডিম, সবজি ও ফলের মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ খাবার বাদ পড়েছে খাদ্যতালিকা থেকে যা সুসাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরি। জার্নাল ইকোনমিয়া পলিটিকায় প্রকাশিত এই সমীক্ষা দেখিয়েছে, খাদ্যের জন্য ব্যয় অনেক পরিমাণে বাধ্য হয়েছে দেশবাসী এবং ২০১৯ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২০ সালের মে মাসে মহিলাদের খাদ্যতালিকার বৈচিত্র্য বহুলাংশে কম।
টিসিআইয়ের রিসার্চ ইকোনমিস্ট সৌম্যা গুপ্তা জানিয়েছেন, অতিমারির আগেও মহিলাদের খাদ্যতালিকায় নানা রকমের খাবার ছিল না সেভাবে, কিন্তু কোভিড-১৯ সেই সমস্যাকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, পুষ্টির উপর অতিমারি প্রভাব নিয়ে কোনও নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং তা লিঙ্গগত দিককে মাথায় রেখে, কারণ নির্দিষ্টভাবে মহিলারা এই অতিমারিতে পুষ্টিগত দিক দিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে।
সমীক্ষায় এর পাশাপাশি বলা হয়েছে, কৃষিজাত পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দামের হেরফের হয়েছে মূলত অনুন্নত জেলাগুলিতে। অতিমারির দিনে মহিলারা যে খাদ্য গ্রহণ করেছে তা পরিমাণে ও গুণমানে কম। যেমন, কিছু মহিলা জানিয়েছে যে, লকডাউনের সময় তারা ডাল ও সব্জির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিল এবং পাতলা ডাল রান্না করেছে খাদ্য বাঁচানোর জন্য। মায়েদের পুষ্টিগত দৌর্বল্যের কারণে প্রভাব পড়বে শিশুদের উপরও, জানাচ্ছেন গুপ্তা।