স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৬ জুলাই।। ভাসুরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর মামলা করে সুবিচার পাচ্ছেন না প্রতারিত গৃহবধূ। ৫ মাসের শিশুকে কোলে দিয়ে নির্যাতিতা প্রতারিত গৃহবধূ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্যে নারী নির্যাতন ও প্রতারণার ঘটনা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতিত গৃহবধূ ন্যায় বিচার চেয়ে বিচার পাচ্ছেন না। মীমাংসার অজুহাত দেখিয়ে প্রতারণার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ন খয়েরপুরের দুলুরা এলাকার প্রতারিত এক গৃহবধূ বোধজং নগর থানায় মামলা দায়ের করে ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী মহিলার নাম শায়েরী রায় পাল। স্বামীর নাম অজিত পাল। পেশায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত ভাসুরের নাম হরিপদ পাল। তিনি নাকি পেশায় শিক্ষক। কাওয়ামারা প্রাথমিক বিভাগে চাকরিরত।
নির্যাতিতা গৃহবধূর বাপের বাড়ি পুরাতন আগরতলা তহশিল অফিস সংলগ্ন স্থানে। নির্যাতিতা গৃহবধূ জানান, দুই বছর আগের সামাজিক প্রথায় তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই ভাসুরের কুনজর পড়ে গৃহবধূর ওপর। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্ধ্যার পর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিত ভাসুর। বহুবার শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ।
বিষয়টি স্বামীকে জানালে স্বামী তা বিশ্বাসই করেন না। উপরন্তু গৃহবধূর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। স্বামী ভাসুর মিলে গৃহবধূকে নির্যাতন করে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর বাপের বাড়ীতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
বর্তমানে তার সন্তানের বয়স ৫ মাস। গৃহবধূকে এবং তার সন্তানকে একটি বারের মত তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দেখতে যায় নি, এমনকি খোঁজখবর নেয়নি। অসহায় গৃহবধূ শেষ পর্যন্ত বোধজংনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।
পুলিশ তাকে মীমাংসা করার প্রস্তাব দিয়ে দায় খালাস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নির্যাতিতা প্রতারিত গৃহবধূ মীমাংসা চান না। তিনি মূল অভিযুক্ত ভাসুর এবং তার স্বামীর উপযুক্ত বিচার চান।রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতিতরা থানার দ্বারস্থ হয়ে উপযুক্ত বিচার পাচ্ছেন না।
পুলিশের ধরনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয় নির্যাতিতা গৃহবধূ সাহেরি রায় পাল উপযুক্ত বিচার পান কি না।