স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৫ জুন।। রাজ্যের জনগণের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি রূপায়ণে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। এই প্রকল্পগুলির সুযোগ সুবিধাগুলি রাজ্যের জনগণের মধ্যে সঠিকভাবে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি রূপায়ণে প্রতিটি দপ্তরকেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে গৃহিত কর্মসূচি রূপায়ণ করতে হবে। আজ সচিবালয়ের ২নং কনফারেন্স হলে আয়োজিত অগ্রগতির সভায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ অগ্রগতির সভায় জল সম্পদ দপ্তর, বন, প্রাণী সম্পদ বিকাশ, গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, পঞ্চায়েত, নগরোন্নয়ন দপ্তর, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রভৃতি দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পগুলির অগ্রগতি বিষয়ে পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলি যথাযথভাবে রূপায়ণ হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবেই জনগণ প্রকল্পগুলির সুফল সময়ের মধ্যে লাভ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী অটল জলধারা মিশনের মাধ্যমে আগামী ২০২২ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ প্রদান করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ণে পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরকে মিশন মুডে কাজ করার নির্দেশ দেন।
এজন্য দপ্তরকে প্রতি মাসের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কাজ করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সভায় প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার জানান, রাজ্যে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গো-ধন প্রকল্পে আগামী তিন বছরে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার গবাদী পশুকে সেক্স সর্টেট সিমেন পদ্ধতির মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজননের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে স্ত্রী বাছুরের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় দপ্তর। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রাথমিকভাবে পশ্চিম ত্রিপুরা, সিপাহীজলা জেলা, খোয়াই, গোমতী এবং ধলাই জেলায় এই প্রকল্প রূপায়ণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বাকী তিনটি জেলায়ও এই প্রকল্প রূপায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে দুধের যে চাহিদা রয়েছে তা পূরণে স্ত্রী বাছুরের সংখ্যা বৃদ্ধি আবশ্যক।
এই দিকটি লক্ষ্য রেখেই রাজ্য সরকার মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গো-ধন প্রকল্পটি চালু করে। এর মাধ্যমে দুধের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আয়েরও একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই বিশেষ ক্যাম্প করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে স্ত্রী বাছুরের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য দপ্তরকে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে জানান, রাজ্যের শহর এলাকায় মোট ৬২ হাজার ৪৭২ টি দোকান রয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে ৪৫ হাজার ৭৫৩ টি দোকানের। এরমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনার মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৯০টি দোকানের। ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮ লক্ষ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা।
সচিব আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনায় ২৮ হাজার ৫৯৬টি দোকানকেক বীমার আওতায় আনা হয়েছে। আগে মাত্র ১,৭৪৬ টি দোকান বীমার আওতায় ছিল। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত দোকানের এখনো ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি তা প্রদানে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করতে হবে।
প্রয়োজনে বিশেষ ক্যাম্প করে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি দোকানের বীমা করানোর জন্য ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করতে হবে। রাজ্যে ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে সরলীকরণ করার কারণেই রাজস্ব আদায় বেড়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী সভায় অভিমত ব্যক্ত করেন। সভায় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব সৌম্যা গুপ্তা জানান, মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা (গ্রামীণ) প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে ২৫০০ দোকানের ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যদিও এই লক্ষ্যমাত্রাকে ছাপিয়ে গ্রামীণ এলাকার মোট ৩০০৮ টি দোকানের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। ১,৮৭৫ টি দোকানকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে।
সভায় জন জীবন মিশন প্রকল্প বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পানীয় জল সম্পদ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে জানান, এই প্রকল্পে রাজ্যের ২ লক্ষ ৩৪ টি পরিবারকে টেপের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দপ্তর কাজ করছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দপ্তরকে মিশন মুডে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় রোড সাইড প্ল্যান্টেশন, তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান গ্রামের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মুখ্যসচিব কুমার অলক, স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, তথ্য প্রযুক্তি দপ্তরের সচিব তনুশ্রী দেববর্মা, বন দপ্তরের প্রধান সচিব বরুণ কুমার সাহু এবং প্রধান মুখ্য বনসংরক্ষক ডি কে শর্মা উপস্থিত ছিলেন।