নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ জুন৷৷ করোনা-র প্রকোপে লকডাউনে ত্রিপুরায় আগত পরিযায়ী শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানে ছক কষে নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বাছাই করে তাঁদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছে রাজ্য৷ ইতিমধ্যে তাঁদের রেশন কার্ড এবং রেগা ও টুয়েপ প্রকল্পে জবকার্ড দেওয়াও শুরু হয়ে গেছে ত্রিপুরায়৷ সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলেছে, পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি পাঠানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলিকেই নিতে হবে৷ শুধু তা-ই নয়, তাঁদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও রাজ্য সরকারকেই ভাবতে হবে৷ এ-বিষয়ে মন্ত্রী রতনলাল আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে নিজের অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের বলেন, ত্রিপুরা সরকারের পোর্টালে বহিঃরাজ্যে অবস্থানরত ৪৬,৪৯৭ নথিভুক্ত করেছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে কর্ণাটকে ১০,০০৭ জন, তামিলনাড়ুতে ১১,৯৯৪ জন, পশ্চিমবঙ্গে ৫,৩১৭ জন, মহারাষ্ট্রে ১৯৯১ জন, অসমে ১,৯৮০ জন, তেলেঙ্গানায় ১,৯০৬ জন, কেরালায় ১,১৭১ জন সহ মোট ৩৫ হাজার নাম নথিভুক্ত করেছেন৷ তাঁর দাবি, প্রায় ২৫,২৫১ সম্পূর্ণ তথ্য ওই পোর্টাল থেকে মিলেছে৷ তাছাড়া অনেক শ্রমিক, তাঁদের সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহাধীন৷ বহিঃরাজ্য ফেরত ত্রিপুরার নাগরিকদের নির্দিষ্ট তালিকা ভিত্তিক তথ্যও দিয়েছেন মন্ত্রী৷ তাঁর কথায়, ৩,৫৭৩ জন পড়ুয়া এবং ৩,৫৭৩ জন তাঁদের অভিভাবক, ১,৩১৪ জন রোগী, ৭৯ জন তীর্থযাত্রী, ৭৩৮ জন পর্যটক এবং ১৫,৮৬৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত বহিঃরাজ্য থেকে ফিরেছেন৷ সাথে তিনি যোগ করেন, তাঁদের মধ্যে ৯,৪০০ জন সড়কপথে, ১২,৫৮৯ জন ট্রেনে এবং ৩,৫৭৭ জন বিমানে এসেছেন৷ শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, ত্রিপুরায় ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের পূর্বতন কর্মক্ষেত্রের শ্রেণি বিন্যাস করে তালিকাও তৈরি করা হয়েছে৷ তাতে দেখা গেছে, অধিকাংশই হসপিটালিটি, নির্মাণ সংস্থা, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস, প্যারা মেডিক্স, ফেক্টরি শ্রমিক, টেইলারিং, সিকিউরিটি গার্ড, কেয়ারটেকার, ড্রাইভার, মেকানিক, ডেলিভারি বয় ইত্যাদি কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন৷ মন্ত্রী নাথ জানান, জেলা এবং ব্লক স্তরে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ অনেকেই পূর্বতন কাজের জায়গায় হয়ত ফিরে যাবেন৷ ফলে যাঁরা থাকবেন তাঁদের জন্য কর্মসংস্থানের চিন্তা করতে হবে৷ তাঁর মতে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এবং স্বরোজগার উভয়ের বন্দোবস্ত করবে ত্রিপুরা সরকার৷ তাঁর দাবি, আত্মনির্ভর প্রকল্পে স্বরোজগারে টাকার কোনও অভাব নেই৷ এছাড়া, অন্যদের বিকল্প কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হবে৷ তাঁর কথায়, স্বরোজগারের ক্ষেত্রে পিএমইজিপি প্রকল্পে ৫০০ জন, স্বাবলম্বন প্রকল্পে ২,০০০ জন, তফশিলি জাতি-উপজাতি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু কপর্োরেশন থেকে ৫০০ জন, এনইইউএলএম ৩০০ জন এমন অতিরিক্ত প্রায় ৩৫০০ জনের ঋণের বন্দোবস্ত করা হবে৷ এছাড়া, নির্মাণ সংস্থা, হোটেল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৪,০০০ জনের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে৷তাঁর দাবি, রেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ২,০০০ জন এবং টুয়েপ প্রকল্পে ১,০০০ জনকে জবকার্ড দেওয়া হবে৷ এছাড়া, বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১০০০ জনের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে৷ সবমিলিয়ে প্রায় ১২,০০০ পরিযায়ী শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য ছক কষে নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার, দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বলেন তিনি৷ মন্ত্রীর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পরিযায়ী শ্রমিকদের আবেদনের তিনদিনের মধ্যে জবকার্ড দিতেই হবে৷ শুধু তা-ই নয়, টুয়েপ প্রকল্পে ৫০ দিন এবং রেগায় ১০০ দিনের কাজ সুনিশ্চিত করতেই হবে৷ পাশাপাশি, রেশন কার্ডের আবেদন আসলে তা-ও বন্দোবস্ত করা বাধ্যতামূলক হয়েছে৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরা সরকার প্রস্তুত রয়েছে৷ ইতিমধ্যে রেশন কার্ড এবং জবকার্ড দেওয়া শুরু হয়ে গেছে৷