স্টাফ রিপোর্টার, ধর্মনগর, ২৪ মে।। কাঠফাটারোদে তৃষ্ণা মেটানোর জল পাচ্ছেন না ধর্মনগরের পূর্ব রাধাপুর এলাকার বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে পানীয় জলের দাবিতে প্রতিবাদে সামিল হন গ্রামবাসীরা। ৬ দিন ধরে পানীয় জলের সংকটে ভোগছেন ধর্মনগর পূর্ব রাধাপুর গ্রামের প্রায় ১৫০ টি পরিবার। রাজ্যের শাসকদল নির্বাচনের পূর্বে ভিশন ডুকুমেন্টে সকলের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ।
রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌছে দেবার উদ্দেশ্যে অটল জলধারা যোজনার মত প্রকল্পের কাজ চলছে । সে জায়গায় শাসক দল পরিচালিত ধর্মনগর শহর লাগোয়া একটি গ্রামের পানীয় জলের পাম্প বিকল হওয়ায় ৬ দিন যাবত জনগন পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। তা মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসিরা । জনগনের অভিযোগ এমন সমস্যা গ্রামে প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় । ৬ দিন যাবত পানীয় জল নেই । অথচ গ্রামের প্রধান উপ-প্রধানকে জানানো হলেও তাদের কোন উদ্যোগ নজরে পরেনি ।
আগে একটা সময় পাম্প বিকল হয়ে পরলে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে বাড়ি বাড়িতে দেওয়া হত পানীয় জল । কিন্তু এখন গ্রামের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে কোন ভূমিকা নেই । পঞ্চায়েতের প্রধান বৃন্দাবন দাস উত্তর জেলার কিষান মোর্চার সভাপতি । কিন্তু উনার বাড়ির সাথেই গ্রামের বহু পরিবারের পানীয় জলের পাম্পটি এতদিন যাবত নষ্ট ।কিন্তু পাম্প সারাইয়ের বিষয়ে উনার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ জনগন।
রবিবার যখন এলাকার বিক্ষুব্ধ জনগন পানীয় জলের দাবিতে গ্রামে জড়ো হতে থাকে তখন গ্রামের নির্বাচিত এক প্রতিনিধি বিক্ষুব্ধ জনগনের উপর চড়াও হয় বলেও অভিযোগ । সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে আসেন প্রধান উপ-প্রধান । শুরু হয় পাম্প সারাইয়ের প্রস্তুতি । পাম্প অপারেটরের বক্তব্য পাম্পের মোটর নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা দপ্তরে জানালে দপ্তর গরিমসি করে চলেছে। কিছু দিন পর পর ঠিকেদার পাঠিয়ে মোটর বদল করে দেয় । কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি ।
প্রশ্ন হচ্ছে, যেদিন থেকে পানীয় জলের পাম্পটি বিকল হয়ে এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ ছিলো সেদিন থেকেই তড়িঘড়ি গ্রামের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্রুত পাম্প সারাইয়ের ব্যাবস্থা নিলেন না কেন ? ৬ দিন পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যখন প্রতিবাদে নেমেছে তখন শুরু হয়েছে পঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিদের দৌড়ঝাঁপ । ভোট বৈতরণী পার হবার মুহূর্তে দেখা যায় জনপ্রতিনিধিদের ঢালাও প্রতিশ্রুতি ।
আর মসনদে বসেই জনগনের পানীয় জলের সমস্যা নিরসনে চলে নানান তালবাহানা । এনিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । অবিলম্বে এলাকায় পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা না হলে গ্রামবাসীরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।