অনলাইন ডেস্ক, ২৬ এপ্রিল।। পছন্দের মানুষের সাথে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করেছিল শবনম ও তার প্রেমিক। ১৩ বছর আগে ভারতের উত্তরপ্রদেশে সেই ঘটনায় হইচই পড়ে গিয়েছিল গোটা ভারতে।
শবনম ও তাঁর প্রেমিক সেলিমকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। ভারতে ৬৬ বছরের মধ্যে, স্বাধীনতার পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে।
জানা যায়, সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শবনমের। সেলিমকে বিয়ে করবেন বলে বাসায় জানান তিনি। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়া ছেলের সঙ্গে মাস্টার্স পাস মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়নি শবনমের পরিবার। তাই প্রেমিকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে শবনম।
শবনম তার মা, বাবা, দুই ভাই, ভাবি, ১০ মাসের ভাইপো এবং এক আত্মীয়কে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাইয়ে প্রথমে অজ্ঞান করেন। এরপর গলা কেটে হত্যা করেন সবাইকে। ৩৮ বছর বয়সী শবনম রামপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২৫ বছর বয়সে তিনি সেই ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিলেন।
২০১০ সালে শবনম এবং সেলিম দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আমরোহার দায়রা আদালত। এরপর গত ১১ বছরে সাজা মওকুফের জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং ভারতীয় রাষ্ট্রপতির কাছেও গিয়েছেন শবনম।
নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান তিনি। কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শবনমের সেই আবেদন খারিজ করে দেন ভারতের শীর্ষ আদালত।
উল্লেখ্য, স্বাধীন ভারতে এখন পর্যন্ত কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।