স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ এপ্রিল।। যে পাহাড় ভোট ছিল বামেদের ভরসার স্থল সেই পাহাড় এবারের ভোটে বামেদের ছুড়ে ফেলে দিল৷ একেবারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো পাহাড়ের তথাকথিত বাম দুর্গ৷
একসময় দশরথ, বিদ্যা, সুধন্যা দেববর্মাদের তৈরি করা গণমুক্তি পরিষদের যে এই হাল হবে তা বাম নেতারা ঘুনাক্ষরে বুঝতে পারেনি৷ এবারেও প্রবল আত্মসন্তুষ্টি ছিল তাদের মধ্যে৷ ভোটের আগেও তারা আশাবাদী ছিল মানুষ ঘুরে দাঁড়াবে৷ মিটিং, মিছিলে লোক সমাগম দেখে তারা ভেবেছিল ১০-১২টি অন্তত আসন পাবেন৷
কিন্তু একটিও আসন জোটেনি বামেদের৷ এডিসি গঠিত হবার পর এই অবস্থা কখনো হয়নি বামেদের৷ এইদিন যে তাদের দেখতে হবে ঘুনাক্ষরেও তারা বুঝতে পারেননি৷ এককথায় পাহাড় রাজনীতি থেকে মুছে গেল এক সময়ের দানবীয় শক্তি সিপিআইএম৷ ২০২১-র এডিসি নির্বাচনে খাতাই খুলতে পারেনি বাম শিবির৷ ১৯৮২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কখনো সিপিআইএমকে এই দুর্দিন দেখতে হয়নি৷ তবে এডিসির নবম সাধারণ নির্বাচনে প্রদ্যোত ঝড়ে খরকুটোর মত উড়ে গেছে সিপিআইএম৷
অবশ্যই বাম নেতৃত্ব তাদের পরাজয় নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করবে৷ এবারের এডিসি নির্বাচনে বামেদের বড় শরিক সিপিআইএম ২৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল৷ বাদবাকি তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল শরিক দল আরএসপি, সিপিআই ও ফরোয়ার্ড ব্লক৷ গোটা বাম ঐক্যই এবার পাহাড়ের লাল মাটিতে ধুলোয় মিশিয়ে গেল৷
দামছড়া-জম্পুই থেকে শুরু করে শিলাছড়ি মনু বনকুল সব জায়গাতেই গো-হারা হেরেছে সিপিআইএম৷ হয়তো বা নির্বাচনের প্রাক্ লগ্ণেও এই দূর স্বপ্ণ দেখতে পায়নি বাম শিবির৷ তাদের মিছিল মিটিং এ লোকজন ছিল বেশ৷ কিন্তু গণনা শেষে সব হিসাব নিকেশ পাল্টে গিয়েছে৷ পাহাড়ের সাধারণ মানুষ বর্জন করেছে বামেদের বরং বামেদের ভোটব্যাঙ্ক কেটে চলে যায় প্রদ্যোতের বাক্সে৷
এডিসি নির্বাচনের প্রাক্লগ্ণে সিপিএম নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করেছিলো প্রদ্যোতকে৷ তিপরা সুপ্রিমোকে বিজেপির শিকারি মোরগ বলেও আখ্যায়িত করেছিল বামপন্থীরা৷ আখেরে বামেদের এই প্রচার বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়৷ বিশেষভাবে বাম ঘরানার যুব প্রজন্মের ভোট চলে যায় প্রদ্যোতের দিকে৷
এই কারণেই প্রশ্ণাতীত খারাপ রেজাল্ট করে সিপিএম৷ নির্বাচন কমিশন থেকে জানা গেছে এবারের ভোটে সিপিএম ১২.৪৬ শতাংশ ভোট পায়৷ আইপিএফটি ভোট পায় ১০.৬২ শতাংশ৷ টিএসপি ভোট পায় ৩৭.৪৩ শতাংশ, আইএনপিটি ভোট পায় ৯.০৩ শতাংশ, ২০১৮ সালের পর থেকে চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে৷
পাহাড়ে জিএমপি এক কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হয়৷ যদিও বামেরা মনে করছিল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায় এবার এডিসি ভোটে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে তারা৷ তাই তো এবার প্রার্থী চয়নে সাবধানতা অবলম্বন করেছিল দল৷ বুড়োদের দূরে সরিয়ে রেখে যুবাদের সামনের সারিতে এগিয়ে দিয়েছিল৷ কিন্তু শেষ রক্ষা হল না৷ ১৯৮৫, ১৯৯৫, ২০০৫, ২০১০, ২০১৫ সালের ভোটে খুমুলুঙ ছিল বামেদের দখলে৷
তবে ১৯৯০ সালে এডিসির ক্ষমতা দখল করে কংগ্রেস-টিইউজেএস জোট৷ তারা পায় ১৮টি আসন৷ ২০০০ সালে ১৮টি আসন নিয়ে এডিসি দখল করে আইপিএফটি৷ ২০১৫ সালের ভোটে ৪৮.৮৮ শতাংশ ভোট পড়ে৷ সিপিএম একাই দখল করে ২৫টি আসন৷ ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, সিপিআই পায় একটি করে আসন৷
ভোট পড়ে ৮৩ শতাংশ৷ ১৭টি আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয় আইপিএফটি দলের প্রার্থীরা৷ বাম শিবির সে সময় ভোট পায় ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৮৫২টি৷ আইপিএফটি পায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার ২৫২, আইএনপিটি পায় ৬৮ হাজার ৬৯৪ ভোট৷ অর্থাৎ বিরোধী শূন্য ছিল ২০১৫ সালের এডিসি কাউন্সিল৷ এবার বাম শূন্য হল এডিসি৷