বাজেট শেষ, অন্ধকারে এনআরসির ভবিষ্যৎ

অনলাইন ডেস্ক, ৩০ মার্চ।। নির্বাচনের আগে থেকেই আসামবাসীকে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিযে আসছে ‘শুদ্ধ, স্বদেশী’ এনআরসি তৈরি করে দেবে। কিন্তু এনআরসি তৈরির আসল দায়িত্ব এনআরসি দফতরের। এনআরসি দফতর এখনও তালিকা থেকে বাদ পড়াদের রিজেকশন লেটারই পাঠাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে, এনআরসি-র কাজ চালানোর জন্য আরও অর্থসাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আরজিআই।

তাই ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার এনআরসির ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকারে! আর চ‚ড়ান্ত এনআরসি-কে গেজেট নোটিফিকেশন দিয়ে স্বীকৃতি দেয়ার ভার রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া বা আরজিআই-এর। আসামে ২০১৯ সালের ৩১ অগস্ট এনআরসি-র ‘তথাকথিত’ চ‚ড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, এনআরসি দফতর অনতিবিলম্বে তালিকায় নাম না-ওঠা ১৯ লক্ষাধিক মানুষকে বাদ পড়ার কারণ জানিয়ে রিজেকশন লেটার বা স্পিকিং অর্ডার পাঠাবে।

তা হাতে পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ-সহ হাজির হতে হবে ফরেনার্স ট্রাইবুনালে। ট্রাইবুনালের সংখ্যাও বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে। কিন্তু দু’বছর পার হতে চলল, এখনও রিজেকশন লেটার তৈরিই হল না। এনআরসির তালিকায় ঘোষিত ও সন্দেহভাজন বিদেশির প্রচুর নাম ঢুকেছে বলেও জানা গিয়েছে। তাই সব জেলাশাসককে তালিকা নতুন করে যাচাই করে সন্দেহভাজনদের নাম বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এনআরসি কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মা।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চলা প্রক্রিয়ায় আদালতের অনুমতি না নিয়েই চ‚ড়ান্ত তালিকায় অদলবদল করার নির্দেশ দেয়ায় বেশ কিছু সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে নালিশ ঠুকেছে। ফলে চলছে মামলা। এ দিকে এনআরসি-র জন্য আসা টাকাও শেষ। তাই ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, সাধারণ কর্মী এবং তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীদের বেতন-ভাতা আটকে। রাজ্য সরকার ২২১ জন ফরেনার্স ট্রাইবুনাল সদস্য নিয়োগ করলেও রিজেকশন লেটারের অভাবে সেই সব ট্রাইবুনালও কাজ শুরু করেনি।

এই চরম নৈরাজ্যের কারণে এনআরসি-র ভবিষ্যৎ যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তেমনি বাড়ছে হয়রানি। অপর এক খবরে বলা হয়, আসামে নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে যাদের নাম চ‚ড়ান্ত দফায় বাদ পড়েছে তাদেরকে অবিলম্বে ‘রিজেকশন সিøপ’ ধরিয়ে দিতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এনআরসিতে নিবন্ধিত হতে ওই রাজ্যে মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদন পড়েছিল। তার মধ্য থেকে চ‚ড়ান্ত দফায় ১৯ লাখের বেশি মানুষের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

অর্থাৎ তারা ভারতের নাগরিক নন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মানুষকে অবিলম্বে ‘রিজেকশন সিøপ’ ধরিয়ে দিতে আসাম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ খবর দিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী অনলাইন দ্য হিন্দু। এতে বলা হয়েছে, ৫ বছর মেয়াদী এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের মোট খরচ হয়েছে ১২২০ কোটি রুপি। ২৩ মার্চ আসামের স্বরাষ্ট্র সচিব এসআর ভুইয়ার কাছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (আরজিআই) অফিস একটি চিঠি লিখেছে।

এতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩১ শে আগস্ট নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে যাদেরকে বাদ দেয়া হবে বা যাদেরকে এতে সংযুক্ত করা হবে তার একটি সম্প‚রক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তা সত্তে¡ও এনআরসি থেকে যাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে তাদেরকে এখনও রিজেকশন সিøপ দেয়া শুরু হয়নি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, এনআরসি থেকে কোন ব্যক্তির নাম বাদ পড়া মানে এই নয় যে, তাকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

তাদেরকে এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সুযোগ দেয়া হবে। সেই সুযোগে তারা তাদের ঘটনাগুলোকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে তুলতে পারেন। এ জন্য সময় ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়। উল্লেখ্য, ভারতে আসাম হলো একমাত্র রাজ্য যেখানে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত¡াবধানে এনআরসি করা হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?