নতুন প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ১১ মে।। লকডাউন এর ৪৭ দিন পর বিলোনিয়া মুহুরীঘাট সীমান্ত স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট আমদানি সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। এদিন সকাল থেকে এইনিয়ে স্থলবন্দরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থলবন্দর এলাকার জনগণ সবাই মিলে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাণিজ্যে বাধা দেয়। বিশেষ করে এলাকার প্রচুর মহিলা স্থলবন্দর সামনে এসে জড়ো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। মহিলাদের বক্তব্য, যেহেতু বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে করোনা পরিস্থিতি, অন্যদিকে এই মুহুরী ঘাট সীমান্ত স্থলবন্দর এলাকার ভারতীয় ভূখণ্ডে জনবসতির ঘনত্ব অনেক বেশি তাই আমদানি বাণিজ্য আপাতত বন্ধ রাখা হোক। আধিকারিকরা বুঝানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ আসা প্রত্যেকটি গাড়ির সেনিটাইজেশন করা হবে।চালককেও ভারতীয় ভূখণ্ডে নামতে দেয়া হবে না। সব মিলিয়ে করোণা পরিস্থিতির নিয়ম মেনেই আমদানির প্রক্রিয়া চলবে। জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক, বিধায়ক, মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক, সবাই মিলে স্থল বন্দরে মহিলাদের বুঝানোর চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের আলোচনা অনুকূল না হওয়ায় পুলিশ লাঠি নিয়ে বাধাদানকারীদের ধাওয়া করে । মুহূর্তের মধ্যেই যারা আমদানি বাণিজ্য বাধা সৃষ্টি করতে এসেছিল সকলের যার যেমন দৌড়ে বাড়ি ঘরে ঢুকে যায়। এর পরেই বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট বোঝাই গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। আগরতলা থেকে আসা ছয়জনের সেনিটাইজেশান টিম সিমেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা গাড়িগুলি সেনিটাইজ্ড করে। চালককেও থার্মালস্ক্রিনিং টেস্ট করা হয়। এদিকে মুহুরী স্থলবন্দরে যেসব শ্রমিক কাজ করত তারা এদিন বাংলাদেশ থেকে আসা সিমেন্টের গাড়ি আনলোড করতে অস্বীকার করে। করোণা সংক্রমণের ভয়ে তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে প্রশাসনকে উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত বিলোনিয়ার ইটভাটা থেকে রাঁচির শ্রমিকদের নিয়ে এসে কয়েকটি সিমেন্ট গাড়ি আনলোডিং করা হয়।বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট আমদানি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।