দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গ্রামের উপর নির্ভরশীল : মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, কুমারঘাট, ৯ ফেব্রুয়ারী।। ধূপকাঠির শলা ও ধূপকাঠি তৈরির হাব হতে চলছে কুমারঘাট৷ এক সময় ২৯ হাজার মেট্রিকটন ধূপকাঠির শলা রাজ্য থেকে ব্যাঙ্গালুরু যেতো৷ পরবর্তী সময় তা নেমে ৪০০ মেট্রিকটনে চলে এসেছিলো৷

পরে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে এই রপ্তানি এখন প্রায় ২ হাজার মেট্রিকটনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে৷ আজ কুমারঘাট কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথাগুলি বলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধূপকাঠির শলা উৎপাদন পুনরায় ২৯ হাজার মেট্রিকটনে নিয়ে যেতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

আজ কুমারঘাটে নবনির্মিত কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধানসভার উপাধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধ সেন, বিধায়ক ভগবান দাস, বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, প্রধান সচিব জে কে সিনহা, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব চন্দ্রকুমার জমাতিয়া, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক তাপস রায় প্রমুখ৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দ দাস৷

উল্লেখ্য, ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কুমারঘাট কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়৷ এর সাথে আগেই ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করা হয় এই কার্যালয়ের ভবন৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ভারত হলো কৃষি প্রধান দেশ৷ দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গ্রামের উপর নির্ভরশীল৷ আর গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা হলো কৃষি৷

তাই কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়৷ কিন্তু এই ক্ষেত্রটি রাজ্যে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পূর্বে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত ছিলো৷ কৃষির সাথে সাথে কৃষি সংশ্লিষ্ট পশুপালন ক্ষেত্রটিতেও গ্রামীণ মানুষদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিলো৷ বর্তমান সরকার রাজ্যে প্রতিষ্ঠার পর ক’ষির উৎপাদন বাড়াতে গ্রামীণ মানুষদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে৷ কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর থেকে ক’ষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে৷ ফলে ক’ষকদের আয় বাড়ছে৷

পিএম কিষাণ সম্মাননিধি যোজনায় শুধুমাত্র পাবিয়াছড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ৩,১৬৬ জনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷এই অর্থ দিল্লি থেকে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে৷ কৃষির জন্য সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ অত্যাধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হচ্ছে৷ যা আগে কখনও করা হয়নি৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখন আগর গাছকে ভিত্তি করে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

উত্তর ত্রিপুরা জেলা ও ঊনকোটি জেলায় প্রচুর আগর গাছ রয়েছে৷ একে ভিত্তি করেই এখানে শিল্প গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে৷ সরকার এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীদিনে রাজ্যে আগর বোর্ড গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে৷ তিনি বলেন, আগর গাছকে ভিত্তি করে আগামী দুই বছরে ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিকভাবে ত্রিপুরা এগিয়ে চলেছে৷

বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত করোনাকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে গড়ে ২৩ শতাংশ৷ কুমারঘাটে জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্য সরকার জনকল্যাণের জন্য যেভাবে অর্থ ব্যয় করছে তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী৷

তিনি বলেন, আমরা চাই মানুষের গড় আয় যাতে আরও বৃদ্ধি পায়৷ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় সহ অতিথিগণ ৮৫ হাজার টাকা ভর্তকিমূল্যের পাওয়ারটিলার পাঁচটি কৃষক পরিবারের হাতে তুলে দেন৷ এছাড়া শ্রম স্বসহায়ক দলকে ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি সরঞ্জাম প্রদান করেন৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?