শাশুড়ির প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দিতে তাঁর নামে মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন ১১ জন বৌমা

অনলাইন ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি।। এদেশে শাশুড়ি ও বৌমার সহাবস্থান এক বিরল ঘটনা বলা যেতে পারে। অভিজ্ঞতা বলছে শ্বাশুড়ি ও বৌমা সর্বদাই যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ। সর্বদাই তাঁরা লড়াইয়ে ব্যস্ত। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নন। প্রায় প্রতিটি সংসারে এটাই স্বাভাবিক চিত্র। তবে কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনাও থাকে।

যেখানে একজন শাশুড়ি বৌমার সত্যিকারের মা হয়ে ওঠেন। তাঁরা দুজনেই একে অপরের ভাল বন্ধু বা সঙ্গী হন। সেই বিরল ঘটনা দেখা গিয়েছে ছত্রিশগড়ের বিলাসপুরের একটি পরিবারে। ওই পরিবারের ১১ জন বৌমা তাঁদের শাশুড়িকে ভালোবেসে তৈরি করেছেন একটি মন্দির। সেই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শাশুড়ির মূর্তি। শুধু তাই নয়, সোনার গয়নায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে শাশুড়ির মূর্তি। নিত্য পুজোও করেন তাঁরা।

ছত্রিশগড়ের বিলাসপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বিলাসপুর কোরবা মার্গে রতনপুর গ্রামে রয়েছে এই বিরল শ্বাশুড়ি মন্দির। জানা গিয়েছে, রতনপুর গ্রামে গীতাদেবি নামে একজন শাশুড়ি ছিলেন। তাঁর ছিল ১১ টি ছেলে। ২০১০-এ মারা যান গীতা। সে সময় তাঁর সবক’টি ছেলের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। তাই ১১জন বৌমা শাশুড়ির প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দিতে তৈরি করেন একটি মন্দির। ওই মন্দিরে রয়েছে শাশুড়ির ছবি।

প্রতিদিন শাশুড়ির পূজা-অর্চনা করেন তাঁরা। বৌমারা সকলেই জানিয়েছেন, যতদিন শাশুড়ি বেঁচে ছিলেন ততদিন তিনি তাঁদের নিজের মেয়ের মতই ভালবাসতেন। এখন তাঁরা শাশুড়ির অভাব বুঝতে পারছেন। সে কারণেই শাশুড়ির স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁরা এই মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিদিন শাশুড়ির পুজোর পাশাপাশি তাঁরা সন্ধ্যাবেলায় সেখানে নাম সংকীর্তনও করেন বলে জানিয়েছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?