প্রাক-বাজেট নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সাথে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মার ভিডিও কনফারেন্স

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৮ জানুয়ারি৷৷ প্রাক-বাজেট নিয়ে আজ সচিবালয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সাথে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মার ভিডিও কনফারেন্সে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে জানান, চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসেবে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা প’দশ অর্থ কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন সুুপারিশের তুলনায় অনেক কম৷ এতে ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২,৬৩৬ কোটি টাকা৷ বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যে সম্পদের ঘাটতি রয়েছে৷

তাই রাজ্যের ক্ষেত্রে এই আর্থিক ঘাটতি পূরণ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে৷ তাই তিনি কেন্দ্রীয় কর খাতে প্রাপ্তির ঘাটতি পূরণে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন৷উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বৈঠকে আরও বলেন, প’দশ অর্থ কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টে ষষ্ঠ তপশিলভুক্ত এলাকা অর্থাৎ ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকার জন্য কোনও বিশেষ অর্থের সংস্থান ছিলো না৷ তিনি বলেন, ষষ্ঠ তপশিলভুক্ত এলাকার উন্নয়নের গতি আনার প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে তার প্রয়োজন আরও বেশি বেড়ে গেছে৷

তাই তিনি ষষ্ঠ তপশিলভুক্ত এলাকার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান৷ বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রয়োদশ অর্থ কমিশনের সুুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা ও অন্যান্য বড় বড় সম্পদ সংস্কারের জন্য বিশেষ কেন্দ্রীয় গ্রান্ট পাওয়া যেতো৷ কিন্তু চতুর্দশ অর্থ কমিশন থেকে এরকম কোনও গ্রান্ট পাওয়া যাচ্ছে না৷ এই পরিস্থিতিতে বহু সড়ক ও বিল্ডিং সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ পিএমজিএসওয়াই সড়কের ক্ষেত্রে নির্মাণের পর পাঁচ বছর পর্যন্ত সংস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু তারপর সংস্কারের দায়িত্ব এসে যায় রাজ্য সরকারের উপর৷ ত্রিপুরায় ২,৫৫০ কিমির বেশি পিএমজিএসওয়াই সড়ক রয়েছে৷

তারমধ্যে বহু সড়কই পাঁচ বা ততোধিক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিলো৷ এসব সড়ক এখন উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা এসব সড়কের সংস্কারের জন্য অনুদান দেওয়ার অনুরোধ জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে৷ বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বিশেষ পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক ফাণ্ড হিসেবে ২০০ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়ার জন্যও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে অনুরোধ জানান৷ তাছাড়াও উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী বর্তমানে এ’টার্নাল এইডেড প্রজেক্ট (ই এ পি)-তে ৮০ : ২০ শতাংশের যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে তা ৯০ : ১০ করতে, উত্তর-পূর্বা’লের রাজ্যগুলির উন্নয়নের জন্য এনইসি ও ডোনারের অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে এবং আশাকর্মীদের জন্য সামাজিক পেনশন ও বেতন বাড়ানোর বিষয়গুলিও তুলে ধরেন৷ উপমুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বার্থে এ সমস্ত বিষয়গুলি ২০২১-২২-এর বাজেটে অন্তর্ভক্ত করতেও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?