স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৮ জানুয়ারি।। শ্রমিক কৃষকদের দাবি নিয়ে শুক্রবার ফের একবার ময়দান মুখী হলো বাম সংগঠনগুলি। এদিন রেগা প্রকল্পের কাজ ২০০ দিনের প্রদান করা, দৈনিক মজুরি ৭০০ টাকা করা, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, চারটি শ্রম কোড এবং তিনটি কৃষি আইন বাতিল করা, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বেসরকারিকরণ করা বন্ধ করা এবং ভাতা প্রাপকদের ভাতা বাতিল করার নীতি বন্ধ করা, মাসিক ভাতা ২ হাজার টাকা করা সহ ১৫ দফা দাবিতে সি আই টি ইউ পশ্চিম জেলা কমিটি, সারা ভারত কৃষক সভার পশ্চিম জেলা কমিটি এবং ত্রিপুরা রাজ্যের দিনমজুর ইউনিয়ন যৌথভাবে সি আই টি ইউ রাজ্য কার্যালয় থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করে। মিছিলটি শহরের বটতলা, পোস্ট অফিস চৌমুহনি, কামান চৌমুহনী সহ বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে শ্রমদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বিক্ষোভ সমাবেশে সি আই টি ইউ রাজ্য সভাপতি মানিক দে বক্তব্য রেখে জানান রাজ্য সরকার কোভিড পরিস্থিতিতে ১ হাজার টাকা প্রদান করার আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা পালন করে নি সরকার। এমনকি শ্রমিকদের মজুরি পর্যন্ত সরকার বৃদ্ধি করছে না। শুধু তাই নয় উচ্চ আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত সরকার মানছে না।
সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রদান করছে না। সরকার একাংশ পুঁজিপতিদের স্বার্থে ধারাবাহিকভাবে সাধারণ মানুষ বিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। সর্বভারতীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার আইন অমান্য আন্দোলনের কথা ছিল। কিন্তু আইন অমান্য আন্দোলন করা হয় নি। কারণ রাজ্যে আইন নেই। দায়িত্বশীল সরকার নেই। সরকার শ্রমিকদের সাথে দাবি দাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিন বছরেও বসে নি। এমন কি মুখ্যমন্ত্রীও বসতে সময় পান নি। দেশকে মালিক দপ্তর তৈরি করে ফেলেছে। রাজ্যের শ্রমদপ্তর সরকারের তাবেদারি করে চলেছে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে ১ টাকা করে এককালীন প্রদান করার যে ঘোষণা দিয়েছিল তা বাস্তবে কতটা পালন করা হয়েছে সেটা সরকার বলতে পারবে। ভোটের আগে বলেছিল দুই হাজার টাকা করে সামাজিক ভাতা প্রদান করবে সরকার।
কিন্তু সরকারে আসার পর ভাতা বৃদ্ধি করবে তো দূরের কথা ৩০ হাজার ভাতা কেটে দেয় সরকার। কিন্তু যারা উপযুক্ত ভাতা পাওয়ার তাদের অবিলম্বে ভাতা পুনরায় চালু করতে হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান গোটা দেশে এক বড় সমস্যার আকার ধারণ করেছে। তাই কর্মসংস্থানের দাবিতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিরোধী সংগঠন ময়দান মুখী হবে। সরকারের এ ধরনের বিরুদ্ধে নীতি পরিবর্তন চায় বিরোধীরা। এর জন্য রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলে সরকারকে হুশিয়ারি দিলেন তিনি। সমাবেশে এদিন আরো ছিলেন সারা ভারত কৃষক সভা রাজ্য কমিটি সভাপতি পবিত্র কর, গণমুক্তি পরিষদের নেতা জীতেন্দ্র চৌধুরি, সারা ভারত নারী সমিতির নেত্রী পাঁচালী ভট্টাচার্য।
বিক্ষোভ সমাবেশের পর একটি প্রতিনিধি দল শ্রম দপ্তরের কমিশনারের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করতে যান। কিন্তু ডেপুটেশন প্রদান করতে গিয়ে কমিশনারকে না পেয়ে সহ কমিশনারের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করতে যান প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহ কমিশনার নিবেদিতা বণিকের কাছে দাবি সনদ তুলে দেন। কিন্তু দপ্তরের সহ কমিশনার কোনো আশ্বাস দিতে পারে নি প্রতিনিধিদলকে। ডেপুটেশনে পর প্রতিনিধিদলে উপস্থিত পাঞ্চালি ভট্টাচার্য জানান, দাবিগুলি আধিকারিকের কাছে তুলে ধরা হলেও তিনি জানিয়েছেন এটা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর।
মুখ্যমন্ত্রী দেখছেন। তাই শ্রমিক এবং কৃষক সহ সাধারন মানুষের সমস্যাগুলি যাতে দপ্তরের কমিশনার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, সরকার নির্মাণ শ্রমিকদের উন্নয়ন তহবিলের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করে চলেছে। সরকারের এ ধরনের শ্রমিক, কৃষক ও সাধারন মানুষ বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সি আই টি ইউ আগামী দিনে আইনি পথে হাঁটবে। এর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিন প্রতিনিধিদলে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্মল রায়, তপন দাস, সমীর চক্রবর্তী, সাধন বসু।