অনলাইন ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর।। নতুন কৃষি আইন নিয়ে কৃষকরা প্রবল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এই কৃষকদের বেশিরভাগই পঞ্জাব ও হরিয়ানার মানুষ। এই কৃষি আইন আগামী দিনে গেরুয়া দলকে যে কতটা বিপাকে ফেলতে পারে তার একটা আগাম আভাস মিলল হরিয়ানার পুরনির্বাচনে। তিনটি পুরনিগমের মধ্যে দু’টির মেয়র পদ হাতছাড়া হয়েছে বিজেপি-জেজেপি জোটের। অন্যদিকে চারটি পুরসভার মধ্যে তিনটি হাতছাড়া হয়েছে এই জোটের। অথচ ২০১৮-য় রাজ্যের পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচনে বিরোধীরা খাতা খুলতে পারেনি। কৃষকদের চলতি বিক্ষোভ আন্দোলনের মধ্যেই হরিয়ানার চারটি পুরসভা ও তিন পুরনিগমের নির্বাচন হয়।
পুরনির্বাচন হলেও মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার নিজে বিজেপি-জেজেপি জোটের হয়ে প্রচার করেন। কিন্তু তাতেও যে কোনও কাজ হয়নি পুরো ভোটের ফলাফল তারই প্রমাণ। কৃষক বিক্ষোভের মূল জায়গা শোনিপথে কংগ্রেসের মেয়র পদপ্রার্থী ১৪ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন। এই শোনিপথ জেজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজের নিজের এলাকা আম্বালায় মেয়র পদে জিতেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা বিনোদ শর্মার হরিয়ানা জনচেতনা পার্টি। বিজেপির পরাজয়ের পর আম্বালায় কৃষকদের রীতিমত মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গিয়েছে। একমাত্র পঞ্চকুলায় মেয়র পদ নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে বিজেপি। চার পুরসভার মধ্যে একমাত্র রেওয়ারিতে চেয়ারপার্সন পদে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
ধারুহেরা, উকলানা, সাম্পলায় জিতেছেন বিরোধী জোট সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৃষকদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন বিজেপি-জেজেপি জোটকে ধাক্কা দিয়েছে এই পুরভোটে। এই ভোটে কংগ্রেস এবং নির্দলরা রীতিমতো রাজ্যের শাসক জোটকে নাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি পরিস্থিতিতে হরিয়ানার আসন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিজেদের প্রতীকে লড়াই নাও করতে পারে শাসক শিবির। কারণ শহর অঞ্চলের থেকে গ্রামাঞ্চলে কৃষি আইনের প্রভাব অনেক বেশি।