স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৩০ ডিসেম্বর।। রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে কৃষি, উদ্যান, মৎস্য, পশুপালন ও রাবার চাষের মতো প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে রাজ্য সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে৷ এসমস্ত প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলির সাথে যুক্ত জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে রাজ্যের ব্যাঙ্কগুলিকে এগিয়ে আসতে হবে৷ যে সমস্ত ক্ষেত্রগুলিতে ঋণ দেওয়ার সুুবিধা রয়েছে সেগুলির জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেওয়ার কর্মসূচি নিতে হবে৷ আজ সচিবালয়ের ২ নং সভাকক্ষে ১৩৩ তম স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির সভায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ সভায় সর্বশেষ এসএলবিসি-র বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো তা কতটুকু অগ্রসর হয়েছে তার পর্যালোচনা করা হয়৷
আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে রাবার, মৎস্য, উদ্যান, ক’ষি, ডেয়ারি শিল্প উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে৷ এসব ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্তদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলিকে কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে৷ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে যেন হয়রানি হতে না হয় সেজন্য ঋণ দেওয়ার পদ্ধতিকে সরলীকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি আরও বলেন, ব্যাঙ্কগুলিকে কোন কোন ক্ষেত্রে কি পরিমাণ ঋণ প্রদান করবে তারজন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের শিক্ষিত যুবক যুবতীদের মধ্যে এখন নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী লঙ্কামুড়ার এক শিক্ষিত যুবক সুুমন রুদ্রপালের উদাহরণ দিয়ে বলেন, স্বরোজগারের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে সে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছে৷ রাজ্যে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ এক্ষেত্রে যারা বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে উদ্যোগী হয়েছেন তাদের চিহ্ণিত করে কেসিসি-র মাধ্যমে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য ব্যাঙ্কগুলির প্রতি আহ্বান রাখেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে রাজ্যে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে উদ্যোগীদের নিয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করার জন্য মুখ্যসচিব মনোজ কুমারকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বর্তমানে বড় মাত্রায় ক’ষকগণ ফুল, আদা, সব্জি চাষের সাথে যুক্ত রয়েছেন৷ উদ্যান চর্চা ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের মাধ্যমে তাদের চিহ্ণিত করে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকে৷ পাশাপাশি রাজ্যের যেসব স্থানে চেকড্যাম তৈরি হচ্ছে সেই এলাকার জেএফএমসিগুলিকে মৎস্য চাষে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যাঙ্ক থেকে কেসিসি-র মাধ্যমে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
সভায় পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ডিজিএম আনন্দ কুমার স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির বিস্তারিত কর্মসূচি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষের অ্যানুয়েল ক্রেডিট প্ল্যানে রাজ্যে ব্যাঙ্কগুলি প্রতিটি ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ডিসবার্সমেন্টের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে৷ চলতি অর্থবর্ষের সেপ্ঢেম্বর মাস পর্যন্ত কৃষি, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সহ অন্যান্য প্রাইমারি সেক্টরগুলির জন্য ২২৬৭.৭৭ কোটি টাকা ব্যাঙ্কগুলি ডিসবার্স করেছে৷ স্ট্যাণ্ড আপ ইণ্ডিয়া প্রকল্পে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের সেপ্ঢেম্বর মাস পর্যন্ত ১০ জন এস সি / এস টি মহিলা সুুবিধাভোগীকে ঋণ দেওয়া হয়েছে৷ ডিজিএম আনন্দকুমার আরও জানান, ২০২০-২১ অর্থবর্ষের সেপ্ঢেম্বর মাস পর্যন্ত মিনি ডেয়ারি প্রকল্পে রাজ্যে ৫৭২টি প্রস্তাবিত ঋণের ম’রি দিয়েছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক৷ চলতি অর্থবর্ষে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ৯৮ জনের শিক্ষা ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে৷
২০২০ সালের সেপ্ঢেম্বর মাস পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২,২৩০টি গৃহ ঋণের ম’রি দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী স্ট্রিট ভেণ্ডর আত্মনির্ভর নিধি প্রকল্পে এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনায় এখন পর্যন্ত ১,৯৮২টি ঋণের ম’রি দেওয়া হয়েছে৷ সভায় এছাড়াও ব্যাঙ্কের নতুন শাখা খোলা, পর্যটন বিকাশে সহায়তা, স্বসহায়ক দলগুলিকে ঋণ প্রদানে গুরুত্ব দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়৷ এসএল বি সি-র ১৩৩তম সভায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মুখ্যসচিব মনোজ কুমার, অর্থ দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের প্রধান সচিব শশীরঞ্জন কুমার, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, আগরতলাস্থিত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শাখার জেনারেল ম্যানেজার তমাল বিশ্বাস, এস এল বি সি কমিটির আওতাভুক্ত বিভিন্ন ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷ এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা করেন পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের চিফ জেনারেল ম্যানেজার রাজীব পুরি এবং এসএলবিসি কমিটির জেনারেল ম্যানেজার এস জি সাহা৷