অনলাইন ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর।। মিউট্যান্ট করোনা ভাইরাসের জেরে দেশের বিমানবন্দরগুলিতে ফিরল পুরনো বিধিনিষেধ। মার্চের মাঝামাঝি করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার সময় দেশের বিমানবন্দরগুলিতে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জারি করা হয়েছিল। আনলক পর্ব শুরু হওয়ার পর সেই সব নিষেধাজ্ঞা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু মিউট্যান্ট ভাইরাসের জেরে সেই সব পুরনো নিষেধাজ্ঞা আবারও বলবৎ হচ্ছে। বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর এসওপি প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৫ নভেম্বরের পর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ব্রিটেন থেকে ব্রিটেন থেকে দেশে ফিরেছেনতাদের প্রত্যেককে নিজেদের ট্রাভেল হিস্ট্রি জমা দিতে হবে। বেশ কিছুদিন আগেই ব্রিটেনে মিউট্যান্ট ভাইরাসের হদিশ মিলেছে। তাই করোনার নতুন এই ভাইরাস যাতে দেশে ঢুকতে না পারে তার জন্যই এই বাড়তি সতর্কতা। এই নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই করোনা পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট পজেটিভ হলে পাঠানো হবে আইসোলেশনে। ওই ব্যক্তির সহযাত্রীদের পাঠানো হবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। তবে বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে এখনও পর্যন্ত মিউট্যান্ট করোনা ভাইরাসের কোনও সন্ধান মেলেনি।
পক্ষকাল ধরে গোটা দেশে প্রবল ঠান্ডা পড়েছে। এই ঠান্ডার মধ্যে গোটা বিশ্বে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। তুলনায় ভারতে চিত্রটা ঠিক এর বিপরীত। অর্থাৎ শীতের প্রকোপ বাড়লেও দেশে করোনার সংক্রমণ ক্রমশ কমছে। এই ধারা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। নতুন নিয়মে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের বিমানবন্দরেই আরটি-পিসিআর টেস্ট করা বাধ্যতামূলক। এই পরীক্ষাতেই ব্রিটেন থেকে আসা ২০ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিদের শরীরে মিউট্যান্ট ভাইরাসের অস্তিত্ব আছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তবে এদের প্রত্যেকেই আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। এই ২০ জনের মধ্যে দু’জন কলকাতার বাসিন্দা।
বাকি যাত্রীদের মধ্যে দিল্লির পাঁচ, আমেদাবাদের চারজন আছেন। সবচেয়ে বেশি তামিলনাড়ু নয়জন বাসিন্দা রয়েছেন। মিউট্যান্ট ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ভারত ব্রিটেন থেকে আসা সব বিমানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অর্থাৎ আগামী বেশ কিছু দিন ব্রিটেন থেকে আসা কোনও বিমান ভারতে নামতে পারবে না।