আগরতলা, ১৮ ডিসেম্বর।। বছর শেষে সুখবর বলা যায়। বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়মিত বেতনক্রম প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট৷ ৬ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সমস্ত প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার জন্য আদেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি আকিল কুরেশি৷
উল্ল্যেখযোগ্য যে, ত্রিপুরা সরকার বিজ্ঞান শিক্ষকদের সাথে বঞ্চনা করছে এই অভিযোগ এনে উচ্চ আদালতে মামলা হয়েছিল৷ কারণ, নিয়ােগপত্রে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী পাঁচ বছর স্থির বেতনে চাকরি করার পরও নিয়মিত বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে না৷
রাজ্য সরকারের পক্ষে আদালতে বলা হয়েছে পূর্বতন সরকার ২০১২ সালে যে বিজ্ঞান শিক্ষক পদে স্থির বেতনে নিয়ােগ করেছে, ওই পদগুলাে নিয়মিত পদের নিরিখে সৃষ্টি করা হয়নি৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের কারােরই বিএড প্রশিক্ষণ নেই৷ সরকার পক্ষের এই বক্তব্য আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে খণ্ডন করেছেন৷ তাঁদের দাবি, শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকেই ধাপে ধাপে বিজ্ঞান শিক্ষকদের ডিএলএড প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷
শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়ােগ নিয়ে অনিয়মের অভিযােগ তুলে ২০১৯ এবং ২০২০ সালে উচ্চ আদালতে দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল৷ সেই মামলাগুলােতে বর্তমান রাজ্য সরকার বিজ্ঞান শিক্ষকদের পক্ষেই বিভিন্ন সময়ে লিখিত বক্তব্য আদালতে জমা দিয়েছে৷ শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর নতুন সরকারের ঘোষিত সমস্ত সুযোগ সুবিধা তারাও পাচ্ছেন৷
শুধু তাঁদের নিয়মিত বেতনক্রম দেওয়া হচ্ছে না৷
উল্লেখ্য, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০১২ সালে বিজ্ঞান শিক্ষকের ১৪৫০টি শূন্যপদ ছিল৷ তাতে এক হাজার পদে স্থির বেতনে বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়ােগের জন্য অনুমােদন দেয় তদানীন্তন বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভা৷ সেই মত নিয়াগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল৷ ২০১২ সালে পূর্বতন সরকার ৯৬২ জনকে নিয়ােগপত্র দিয়েছিল৷
চাকরিতে যােগ দেওয়ার সময় বিজ্ঞান শিক্ষকদের বেতন ভাতা ছিল ৭০৬০ টাকা৷ বর্তমানে তারা পাচ্ছেন ২০,৪৭৫ টাকা৷ নিয়ােগপত্রের শর্ত অনুযায়ী ২০১৭ সালেই বিজ্ঞান শিক্ষকদের পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে৷ ফলে তাঁদের নিয়মিত করা উচিত ছিল৷ কিন্তু পূর্বতন সরকার তখন বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়মিত করেনি৷
২০১৮ সালে ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তন হয়৷ পরবর্তী সময় বিজ্ঞান শিক্ষকরা আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতে পৃথকভাবে তেরােটি মামলা দায়ের করেন৷ সবগুলি মামলাই একসঙ্গে করে বুধবার চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি৷ আজ ওই মামলায় রায় দিয়েছেন তিনি৷