অনলাইন ডেস্ক, ১৮ ডিসেম্বর।। কথায় বলে ঠেলার নাম বাবাজি। দলকে চাঙ্গা করতে শেষ পর্যন্ত শনিবার ২৩ জন বিক্ষুব্ধ নেতার সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি এই বৈঠকে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধি ও দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধিও উপস্থিত থাকছেন। এই ২৩ জন নেতা অগস্ট মাসে সোনিয়া গান্ধিকে দলের সংস্কারের বিষয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন।
সেখানেই তাঁরা জানিয়েছিলেন, দলের কার্যপদ্ধতি, নেতৃত্ব, সংগঠনের অবস্থা আদৌ সন্তোষজনক নয়। নেতৃত্ব বদল করা দরকার। সে সময় সোনিয়া ওই নেতাদের উপর কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এমনকি, বিক্ষুব্ধ নেতাদের বিভিন্ন কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়ে।
এর পরেই নড়েচড়ে বসেন সোনিয়া। শেষ পর্যন্ত দলের সংস্কার ও নেতৃত্ব নিয়ে এই বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। যদিও কংগ্রেসের দাবি, সোনিয়া শুধু বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তা নয়। ২৩ জন নেতার বাইরে আরও অনেকেই শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
সূত্রের খবর, আগামী বছরের শুরুতেই কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচনের কথা ভাবছে দল। কারণ দলে পূর্ণ সময়ের কোনও সভাপতি না থাকায় কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশে তার মাশুল চোকাতে হয়েছে। রাজস্থানেও একসময় সরকার টলমল হয়ে গিয়েছিল।
বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য সোনিয়াকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ। দলকে চাঙ্গা করে তুলতে হলে কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার কমলনাথ সেটা বোঝান সোনিয়াকে। এর পরেই সোনিয়া বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি হন।
উল্লেখ্য, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল। তারপর অন্তর্বর্তী সভাপতি নির্বাচিত হন সোনিয়া। তবে শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকায় সোনিয়াও দীর্ঘদিন এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন।