অনলাইন ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বর।। কয়েক মাস আগে প্রয়াত হয়েছেন দেশের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশের কাজ চলছে। এই আত্মজীবনী প্রকাশ নিয়ে প্রকাশ্যেই কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করলেন প্রণব পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ও কন্যা শর্মিষ্ঠা। প্রণব পুত্র যখন প্রকাশককে এই বই প্রকাশ করা বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন, সে সময়ে শর্মিষ্ঠা বলছেন অবিলম্বে এই বই প্রকাশ করতে হবে। দাদা অভিজিতের বিরুদ্ধে শর্মিষ্ঠা পাল্টা তোপ দেগে বলেছেন, সস্তা প্রচার পেতেই অভিজিৎ বাবার আত্মজীবনী প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন।
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী প্রকাশের দিনক্ষণ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে প্রকাশনা সংস্থা রুপা পাবলিশিং হাউস। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী ‘প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ার্স ‘ ২০২১- এর জানুয়ারিতে প্রকাশ হওয়ার কথা। বই প্রকাশের বিষয়টি যখন চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে সে সময় ওই অপ্রকাশিত ওই আত্মকথার পান্ডুলিপি নিজে খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন প্রণব পুত্র অভিজিৎ। প্রকাশককে তিনি বলেছেন, ওই পান্ডুলিপি বই আকারে প্রকাশের আগে ছেলে হিসেবে তার থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া জরুরি। শুধু তাই নয়, ওই বই প্রকাশ বন্ধ রাখার জন্য প্রকাশককে কড়া হুমকিও দিয়েছেন অভিজিৎ। বিষটি নিয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ করার হুমকিও দিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মেয়ে প্রকাশককে বই প্রকাশের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। শর্মিষ্ঠা বলেছেন, দাদার উচিত বই প্রকাশে অহেতুক বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকা। আসলে সস্তা প্রচার পেতেই অভিজিৎ এই কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই বইটির কিছু বিতর্কিত অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিজিৎ। অভিজিৎ পরিষ্কার বলেছেন, তাঁর বাবাকে অসম্মানিত করতেই এটা করা হয়েছে। সে কারণেই তিনি প্রকাশকদের কাছে অবিলম্বে ওই বই প্রকাশ বন্ধ রাখতে নির্দেশ পাঠিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি জন্য তিনি সোনিয়া গান্ধি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে দাবি করেছেন, ২০০৪-এ তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে কংগ্রেসের এই অবস্থা হত না। প্রণববাবুর লেখার এই অংশটি প্রকাশ্যে আসায় চরম অস্বস্তিতে পড়ে কংগ্রেস। এরপরই প্রকাশককে ওই বই প্রকাশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন অভিজিৎ।