অনলাইন ডেস্ক, ১১ ডেস্ক।। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বুলন্দশহরের এক তরুণী আচমকাই একটি খালে ঝাঁপ দেন। এলাকার কয়েকটি বাচ্চা ছেলে ওই তরুণীকে ঝাঁপ দিতে দেখে দৌড়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনার সময়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এলাকায় ডিউটি করছিলেন।
ওই মহিলার ঝাঁপ দেওয়ার খবর শুনেই ছুটে যান ইরফান নামে এক কনস্টেবল। ইরফান দেখেন খালের জলে এক মহিলা হাবুডুবু খাচ্ছেন। এর পর কোন কিছু না ভেবে ইরফান খানের খালে ঝাঁপ দেন। প্রায় ১০০ মিটার মত সাঁতরে গিয়ে ওই মহিলাকে কোনওভাবে উদ্ধার করেন তিনি। ওই মহিলাকে উদ্ধার করে যখন পাড়ে আনা হয় তখন তিনি অচৈতন্য হয়ে গিয়েছেন।
বেশ কিছুক্ষণ প্রাথমিক শুশ্রূষার পর ওই মহিলার জ্ঞান ফেরে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা গ্রেটার নয়ডায় স্বামীর সঙ্গেই থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় বৃহস্পতিবার তিনি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। ঠিক সময়ে ইরফান তাঁকে না বাঁচালে ওই মহিলার মৃত্যু হওয়াই ছিল স্বাভাবিক। ঘটনাটি জানার পর সকলেই কনস্টেবল ইরফানের প্রশংসা করেছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কমিশনার আলোক সিংহ ইরফানকে পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন।
প্রবল ঝুঁকি নিয়ে একজন সাধারণ নাগরিকের জীবন বাঁচানোর জন্য ইরফানকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার সঙ্গে পদোন্নতিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
জ্ঞান ফেরার পর ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী পেশায় শ্রমিক। প্রতিদিনই তিনি মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন এবং নিয়মিত তাঁকে মারধর করেন।
শুধু তাই নয় মদ খাওয়ার জন্য টাকাও আদায় করেন তাঁর কাছ থেকে। প্রতিদিন এধরনের অশান্তিতে তিনি তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। ঘেন্না ধরে গিয়েছিল নিজের জীবনের উপর। সে কারণেই তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। ওই মহিলাকে তার বাবা ও ভাইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।