স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৮ ডিসেম্বর।। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গোটা দেশে কৃষকদের চলছে আন্দোলন। প্রথমে সেই আন্দোলন বিভিন্ন রাজ্যের সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরে আন্দোলন ধীরে ধীরে ব্যাপক আকার ধারণ করে দেশের রাজধানীতে পোছায়।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে কৃষকরা দিল্লি হরিয়ানা এবং দিল্লি পাঞ্জাব সীমান্তবর্তী রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেছে গত দু’সপ্তাহ যাবত। ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কৃষকদের আলোচনায় কোনরকম সমাধান সূত্র বেরিয়ে না আসায় ৮ ডিসেম্বর ভারত বনধ -এর আওয়াজ তুলে কৃষকেরা। কৃষকদের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় সরকার ২৭ সেপ্টেম্বর যে কৃষি আইন গুলি রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করে পাস করে নিয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।
কারণ এ আইন সম্পন্ন কৃষক বিরোধী। সরকার পক্ষ কর্পোরেটদের স্বার্থে এনেছে। এর বিরোধিতা করে কৃষক আন্দোলন চরম আকার ধারণ করেছে। আর কৃষকদের সাথে গোটা দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি এগিয়ে এসেছে। একইভাবে ত্রিপুরা রাজ্যও বাদ পড়েনি। রাজ্যে সিপিএম এবং কংগ্রেস কৃষকদের সাথে সুর মিলিয়ে দাবি তুলছে কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্যের জন্য অবিলম্বে এই আইনগুলি প্রত্যাহার করা জন্য।
সোমবার রাজ্যের বিরোধী কংগ্রেস বনধের সমর্থন জানিয়ে এবং শাসক দল বিজেপি বনধের তীব্র বিরোধিতা করে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দেয় পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছিল রাজ্যের উভয় দলের কর্মীরা মাঠে ময়দানে। যুব মোর্চা এবং মহিলা মোর্চার পক্ষ থেকে শহরের অলিগলিতে ছিল বনধ-এর অসমর্থনে মিছিল।
পাশাপাশি যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রদেশ যুব কংগ্রেস ভবনের সামনে টায়ার পুড়ে বনধের সমর্থন জানানো হয়। রাস্তার দোকানপাট অধিকাংশই ছিল বন্ধ। ছোট-বড়ো অধিকাংশ যানবাহন চলাচল ছিল বন্ধ। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা সারাদিন ব্যাপী সহ বিভিন্ন প্রান্তে দোকানপাট খুলতে মিছিল করলেও বনধের মিশ্র সাড়া পরিলক্ষিত হয়।
অফিস-আদালতের কর্মীদের উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম। পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপার মানিক দাস জানান, বনধকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই জেলাতে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী নামানো হয়েছে। আর যদি কোনো রাজনৈতিক দল বনধকে কেন্দ্র করে পিকেটিং করে তাহলে আইনত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।