অনলাইন ডেস্ক, ৭ ডিসেম্বর।। সতেরো বছর আগের কথা। প্যারিসে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের লং জাম্পে তিনি জিতেছিলেন ব্রোঞ্জ। সোমবার সেই সাফল্যের কাহিনি শোনাতে গিয়ে প্রাক্তন মহিলা অ্যাথলিট অঞ্জু ববি জর্জ ফাঁস করলেন অজানা এক তথ্য। জানালেন, একটি কিডনি নিয়ে, সমস্ত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে তিনি পদক জিতেছিলেন। তিনি টুইট করেছেন, “কেউ বিশ্বাস করতে পারেন, কেউ না-ও করতে পারেন। আমি সেই হাতে গোনা অ্যাথলিটদের মধ্যে একজন, যে প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম সরে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিলাম। একটি মাত্র কিডনির উরে নির্ভর করে। আমাকে ব্যথা উপশমের জন্য নানা ধরনের ওষুধ খেতে হত. তার জন্য নানা ধরনের অ্যালার্জিও হত। কিন্তু হার মানিনি। সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই লক্ষ্যে পৌঁছেছিলাম।” স্বামী রবার্ট ববি জর্জের কাছেই ট্রেনিং নিতেন অঞ্জু।
তিনিই প্রতিনিয়ত স্ত্রীকে সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন যে, সীমাবদ্ধতাকে ভুলে গিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে আনা সম্ভব। অঞ্জু কথা রেখেছিলেন। যা নিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি এখনও মাঝেমধ্যে চিন্তা করি, আমার সাফল্যের পিছনে কার ভূমিকা বেশি ছিল? আমার কোচের ম্যাজিক নাকি ওর প্রতিভা! তবে একটা বিষয় আমি বুঝেছি। বাধাবিপত্তিকে সরিয়ে দিয়ে এগিয়ে চলা সম্ভব। আমি তা করে দেখিয়েছি।” করোনা অতিমারির কারণে এখনও সেভাবে অ্যাথলিটরা নতুন করে অনুশীলন শুরু করতে পারেননি। অঞ্জু বলেছেন, “এমন পরিস্থিতির জন্য তো আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। তবে আমি মবনে করি, হতাশাকে প্রশ্রয় দিয়ে কোনও লাভ হয় না। নিজের শরীরকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে।
তা হলেই সমস্ত ধরনের ধকল সহ্য করা সম্ভব। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মনের জোর ধরে রাখতে পারলে সব কিছুই সম্ভব। আমি সেভাবেই প্যারিস থেকে পদক নিয়ে ফিরেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা হল, আমার স্বামী এমনও জানিয়েছিলেন যে, কষ্ট বেশি হলে তিনি একটি কিডনি আমাকে দান করবেন। কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে আসা যাবে না। আমি ওঁর মনের জোর দেখে নিজেকে তৈরি করে ফেলেছিলাম। কখনও মনে হয়নি, শারীরিক সমস্যা নিয়ে বাইরের লোকের কাছে কিছু বলার প্রয়োজন রয়েছে। তাতে হয়তো পরিস্থিতি আমার পক্ষে মোটেও সুখকর হত না। তাই নিজেই নিজেকে সর্বোচ্চ স্তরে প্রমাণ করার জন্য তৈরি হয়েছিলাম।”