৩০ জুলাই আগরতলায় উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের সম্মুখে উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাবের উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৮ জুলাই।। আগামী ৩০ জুলাই উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের প্রধান ফটকের সামনে উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাবের উদ্বোধন হবে। দেশ ও বিদেশের পর্যটন মানচিত্রে ত্রিপুরাকে পর্যটনের উৎকৃষ্ট কেন্দ্র ও অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এই ‘উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাব’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এ সংবাদ জানান।

পর্যটন মন্ত্রী জানান, ‘উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাব’ প্রতি সপ্তাহের শনি ও রবিবার গ্রীষ্মকালে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং শীতকালে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকবে। ‘উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাব’ চলাকালীন সময়ে শেরওয়ালী সুইটস থেকে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন চৌমুহনী এবং জ্যাকসন গেইট ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকাকে ‘নো ভেহিকেল জোন’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটন মন্ত্রী জানান, উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাবকে কেন্দ্র করে আগরতলা শহরের মানুষ আনন্দ ও বিনোদনের একটা নতুন ঠিকানা পাবেন। ‘উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাব’-এ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য বেশ কিছু সুযোগ সুবিধাও রাখা হবে। এরমধ্যে থাকবে সুসজ্জিত ভ্রাম্যমান ফুড স্টল, পর্যটকদের বিনোদনের জন্য উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের রাধাসাগরে থাকবে প্যাডেল বোটিং-এর ব্যবস্থা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলংকার পরে ছবি তোলার সুবিধার্থে স্টেট মিউজিয়ামের বাগান এলাকায় থাকবে ফটো কাউন্টার, ৩৬৫ দিনই উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ ও স্টেট মিউজিয়াম খোলা রাখা এবং সন্ধ্যায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো প্রদর্শনী ইত্যাদি। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য ঐ দুদিন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হবে।

এছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য থাকবে যথেষ্ট পরিমাণে মহিলা ও পুরুষ পুলিশের ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণ ও সিসিটিভি’র ব্যবস্থা এবং সাদা পোশাকে পুলিশী টহলদারীর ব্যবস্থা ইত্যাদি। ‘উইকেন্ড ট্যুরিষ্ট হাব’ চালু হলে রাজ্য সরকারের যেমন রাজস্ব আয় হবে তেমনি বেকার যুবক-যুবতীদেরও আয়ের একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে। পর্যটন মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার পর্যটনকে রাজ্যের বিকল্প অর্থনীতির উৎস হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে ত্রিপুরাকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্যে পর্যটন দপ্তর বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রাজ্যের পর্যটনকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার দেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে রাজ্য পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করেছে। তিনি জানান, পর্যটনের বিকাশে রাজ্যের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলিকে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ফান্ডে বর্তমানে ছবিমুড়া এলাকা এবং অমরপুর শহরের অমরসাগর ও ফটিকসাগরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ৫৮ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা দরপত্রের মূল্যায়ণের কাজ চলছে। ঊনকোটি জেলার কৈলাশহরস্থিত সোনামুখি চা বাগানে পর্যটকদের জন্য বহুমুখি সুযোগ সুবিধা তৈরি করার লক্ষ্যে ৬৩.৭২ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে একটি অ্যাডভেঞ্চার পার্কও নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও এডিবি ফান্ডে চতুদর্শ দেবতা মন্দির, কমলাসাগর কালি মন্দির এবং নীরমহলের পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য ডিপিআর তৈরীর কাজ চলছে।

পর্যটন মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকার স্বদেশ দর্শন ২.০ প্রকল্পে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের অত্যাধুনিক পরিকাঠামো তৈরীর অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পে ডম্বুর জলাশয়স্থিত নারকেলকুঞ্জ দ্বীপে আরও ৮টি লগ হাট নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে সেগুলি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এরফলে পর্যটকরা নারকেলকুঞ্জে মোট ২৩টি লগ হাট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার ও পর্যটন দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?