অনলাইন ডেস্ক, ১৭ সেপ্টেম্বর।। চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা লেবাননে ব্যাংক ‘ডাকাতির’ ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তবে এই ‘ডাকাতেরা’ আসলে ডাকাত নন। তারা ব্যাংকেরই গ্রাহক। অন্যের অর্থ লুট করতে নয় বরং ব্যাংকে নিজেদের জমানো অর্থ তুলতেই তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে।
এমনকি এই ডাকাতিতে যুক্ত ব্যক্তিদের আটক ও বিচারের আওতায়ও আনা হচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের তুলে ধরা হচ্ছে রীতিমতো নায়ক হিসেবে। দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাও তত বাড়ছে।
দেশটির কালোবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রা লেবানিজ পাউন্ডের অবমূল্যায়ন ঘটেছে ৯০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে জনগণ নিজেদের ব্যাংক হিসাব থেকে কী পরিমাণ অর্থ তুলতে পারবেন তার সীমাও বেঁধে দিয়েছে সরকার। এক হাজার ডলার তুলতে গেলে হয়তো ৩০০-৪০০ ডলার দেওয়া হচ্ছে।
দেশটির সরকারের এ পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলেছে। ২০১৯ সাল থেকে লেবাননে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক মন্দার শুরু। জাতিসংঘের হিসাব মতে, অর্থনৈতিক মন্দার ফলে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংই গরীব হয়ে গেছেন।
অর্থনৈতিক দৈন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে দিনে দিনে বেড়েছে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব। স্বাভাবিকভাবে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের সঞ্চয়ের পরিমাণও কমেছে। লেবাননে চলতি বছর ডাকাতি করে ব্যাংক থেকে নিজের অর্থ তুলে নেওয়ার প্রথম ঘটনা জানা যায় গত জানুয়ারিতে।
নিজের অ্যাকাউন্টে (হিসাব) জমানো বৈদেশিক মুদ্রা তুলতে না পেরে এক ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি ব্যাংকে ঢুকে পড়েন। এ ঘটনার পর ওই ব্যক্তিকে তার জমানো অর্থ থেকে কিছু দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।