স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২২ আগস্ট।। মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে রাজ্যের সব জেলায় নির্বাচিত স্কুলে সহজে স্থাপনযোগ্য তারামন্ডল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ৩টি জেলায় তারামন্ডল স্থাপন করার কাজ শেষ হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আরও ৪টি জেলায় তারামন্ডল স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে। আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের সচিব প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী এই সংবাদ জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের উদ্যোগে বায়োভিলেজ প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৮টি বায়োভিলেজ প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়েছে। দুটি বায়োভিলেজ প্রকল্প রূপায়ণের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরে ৪টি নতুন বায়োভিলেজ রূপায়ণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি বায়োভিলেজ প্রকল্প রূপায়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
তিনি জানান, রাজ্যের জুমচাষ এলাকার মানচিত্র তৈরী করার কাজও ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের সচিব প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিকল্পনা রূপায়ণের যথাযথ নজরদারির কাজে উপগ্রহ ভিত্তিক দূরসংবেদী প্রযুক্তি ও ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগের লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে কৃষি, বন ও পরিবেশ, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিপর্যয় মোকাবিলা, পর্যটন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ২১টি প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে। বায় হবে প্রায় ৪ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। রাজ্য সরকার, উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদ ও কেন্দ্রীয় মাহাকাশ দপ্তর এই ব্যায় বহন করবে। ত্রিপুরা স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার, নর্থ ইস্টার্ন স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এবং রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি যৌথভাবে এই প্রকল্পগুলি রূপায়ণ করবে।
এইসব কর্মসূচি রূপায়নের জন্য এবং ভবিষ্যতে এরকম আরো কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার জন্য এবছর ২৫ জুলাই রাজ্যের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তর ও নর্থ ইস্টার্ন স্পেশ অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মধ্যে একটি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি জানান, এককালীন ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষে দপ্তর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভারত সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন।
মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭৫ মাইক্রনের কম পুরু বিশিষ্ট সমস্ত ধরনের প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ১২০ মাইক্রনের কম পুরু বিশিষ্ট সমস্ত ধরনের প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, মজুত পরিবহন বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে।
গতবছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ৬০ গ্রাম প্রতি বর্গমিটার জিএসএম এর কম ওজনের নন-ওভেন প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সাংবাদিক সম্মেলনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের সচিব জানান, গত ১ জুলাই থেকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দ্রব্য উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
তিনি জানান, নির্দিষ্ট কতগুলি জিনিসের উপর যেমন প্লাস্টিকের কাঠি সহ ইয়ার বাড়, বেলুনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাঠি, প্লাস্টিকের পতাকা, চকলেটে ব্যবহৃত কাঠি, আইসক্রীম স্টিকস সাজসজ্জার জন্য পলিস্টাইরিন (থার্মোকল), তাছাড়া প্লেট, কাপ, গ্লাস, কাটলারি যেমন কাঁটাচামচ, ছুরি, স্ট্র, ট্রে, মিষ্টির বাক্সের মোড়ক ফ্লিম, আমন্ত্রনপত্র এবং সিগারেটের প্যাকেট মোড়ানোর ফিল্ম, প্লাস্টিক বা পিভিসি ব্যানার ১০০ মাইক্রনের কম পুরু বিশিষ্ট জিনিসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, রাজ্যেও একইরকম ভাবে সমস্ত প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহারের উপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা সংশোধন করে উল্লেখ্য নিয়ম/রুল মোতাবেক উল্লিখিত প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিক্রয় ও ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তাছাড়া, এইসব নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের বিকল্পের উপর জোর দেওয়া, পচনশীল ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন এবং স্কুল ইকো ক্লাবের মাধ্যমে রাজ্য জুড়ে এ ব্যাপারে ব্যাপক জনসচেনতা সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দপ্তর থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সচিব জানান। আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনে সচিব প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী ছাড়াও দপ্তরের অধিকর্তা অনিমেশ দাস, সহ দপ্তরের ফা অধিকর্তা উপস্থিত ছিলেন।