স্টাফ রিপোর্টার, বিশালগড়, ৪ আগস্ট।। নারী ক্ষমতায়ণের মধ্য দিয়েই সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। সরকার রাজ্যে নারী ক্ষমতায়ণে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। আজ দেশের নারীরা শিক্ষা থেকে শুরু করে খেলাধুলা, সমস্ত ক্ষেত্রেই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ অভিযান সারা দেশেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আজ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বিশালগড়ের বিবেকানন্দ শিশু নিকেতন দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবছর মাধ্যমিকে এই বিদ্যালয়ের চারজন। ছাত্রী কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে।
রাজ্যের মেয়েরা পড়াশুনায় যে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে এটাই তার প্রমাণ। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সাহা ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের অবশ্যই যেন নিজ বিদ্যালয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকে। তাদেরকে শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক এবং বয়:জেষ্ঠদের সম্মান করতে হবে।
তিনি ছাত্রছাত্রীদেরকে বলেন, সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা দরকার। এতে আগামী দিনের কাজ অনেক সহজতর হয়। তিনি বলেন, শুধুমাত্র পড়াশুনা করলেই হবেনা, পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলাও চালিয়ে যেতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমেই সুস্থ শরীর। সুস্থ মন গড়া সম্ভব। তিনি ছাত্রছাত্রীদের নেশা থেকে দূরে থাকার জন্য আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা তাঁর প্রফেসর জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে জ্ঞান দিতে গেলে নিজেরও পড়াশুনা করতে হবে। এতেই ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত জ্ঞান প্রদান করা যায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই আগামীতে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমান রাজ্য সরকার মহিলাদের জন্য কর্মক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের আগামী ১৩ থেকে ১৫ আগষ্ট দেশের স্বাধীনতা দিবসের ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা বিদ্যালয়ে একটি কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্র রাজা সাহা তার নিজের হাতে আঁকা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার হাতে তুলে দেন।
উল্লেখ্য, এবারের ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের যে চারজন ছাত্রী কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা হল আয়ুসি সরকার, তনুশ্রী সাহা, সুবর্না রবিদাস ও অনন্যা ঘোষ।অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্যই হল শিক্ষার বিকাশ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার রাজ্যের গুণগত শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এনসিআরটি কোর্স চালু করা হয়েছে। তাছাড়াও ১৩৫টি বৃত্তিমূলক বিষয়, সুপার-৩০ প্রকল্প, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা, নূতন দিশা প্রকল্প, বিজ্ঞান এবং অংকের উপর মেধা অন্বেষণ পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নূতন শিক্ষানীতিতে বিদ্যালয় ছুট ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে ফিরিয়ে আনার জন্য বিদ্যালয় চলো অভিযান চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির প্রেসিডেন্ট নবাদল বণিক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক বিশ্বশ্রী বি, জেলা শিক্ষা আধিকারিক হাবুল লোধ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রমুখ।