অনলাইন ডেস্ক, ২৩ জুলাই।। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের কয়েকজন বিবিসিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বেসামরিক লোকদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এই প্রথমবারের মতো তারা সবিস্তারে বর্ণনা করেছে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাবলি- এবং তারা বলছে, এগুলো করতে তাদের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
মিয়ানমারে গত বছর এক অভ্যুত্থানে অং সান সূচির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। এরপর থেকে তারা বেসামরিক লোকদের সশস্ত্র অভ্যুত্থান দমন করার চেষ্টা করছে। একজন কর্পোরালসহ ৬ জন সৈন্য এবং তাদের শিকার হওয়া লোকদের জবানবন্দি থেকে ধারণা পাওয়া যায়— একটি সেনাবাহিনী কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এই সৈন্যরা সম্প্রতি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছেন।
তারা মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধরত বেসামরিক মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর একটি শিথিল নেটওয়ার্ক পিপলস ডিফেন্স ফোর্স বা পিডিএফের আশ্রয়ে আছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে ওই সেনাদের ছদ্মনামে উদ্ধৃত করা হয়। মাউং উ ছিলেন এমন একটি ব্যাটালিয়নের অংশ, যারা ২০২২ সালের মে মাসে একটি বৌদ্ধ আশ্রমে লুকিয়ে থাকা বেসামরিক লোকদের হত্যা করে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আদেশ দেওয়া হয় পুরুষদের সবাইকে ধরে আনতে এবং তার পর তাদের গুলি করে হত্যা করতে। ’‘সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো যে আমাদেরকে বয়স্ক মানুষ এবং একজন নারীকেও হত্যা করতে হয়েছিল। ’গত বছর ২৯ ডিসেম্বর মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে ইয়াই মিয়েত গ্রামের ওপর চক্কর দিতে থাকে তিনটি হেলিকপ্টার।
এতে থাকা সৈন্যদের ওপর আদেশ ছিল গুলি চালানোর। সেখানে কী ঘটেছিল তার বর্ণনা দিয়েছেন পাঁচ জন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। তারা আলাদা আলাদাভাবে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন।