স্টাফ রিপোর্টার, মেলাঘর, ৩০ জুন।। সঠিকভাবে বাঁচতে হলে এবং নিশ্বাস নিতে হলে আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও অতীত ইতিহাসকে মনে রাখা উচিত। রাজ্য সরকার এবং তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর সেই কৃষ্টি সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
আজ বিকেলে মেলাঘরে জগন্নাথ বাড়ি মুক্তমঞ্চে প্রদীপ জ্বালিয়ে ৯ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলাঘর রথযাত্রা মেলা উপলক্ষে সাংস্কৃতিক উৎসবের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
তিনি বলেন, জগন্নাথ শব্দের অর্থ হচ্ছে লর্ড অফ ওয়ার্ল্ড। এই উৎসবে শ্রী শ্রী জগন্নাথ, শ্রীকৃষ্ণ, ভগবান রাম সব কিছুই বিদ্যমান। তিনি বলেন, এই সময়ে ভগবান নাকি মানুষের সাথে একাত্ব হন। তাই রথযাত্রা উৎসবে ভগবান ও মানুষের মধ্যে প্রেম অনুভব করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেলাঘরের রথযাত্রার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজন্য আমল থেকেই এখানকার জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাস রয়েছে। মেলা হচ্ছে মানুষের মেলবন্ধন।
এই ধরণের মেলা উৎসবকে বাচিয়ে রাখতে হবে। এখানকার মানুষ এই মেলার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন। গত দুবছর কোভিডের কারণে তা সম্ভব হয়নি। দুবছর পর এলাকার মানুষ আবার এই উৎসবে মিলিত হয়েছেন। এটা অত্যন্ত আনন্দের।
তিনি বলেন, মেলাঘর ছাড়াও আগরতলা, ধর্মনগর এবং উদয়পুরে রথযাত্রা সাড়ম্বরে পালিত হয়। এছাড়া পুরী, পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও রথযাত্রা পালিত হয়। তিনি এই এলাকার জনগণকে ধন্যবাদ জানান। সবার সহযোগিতায় এই মেলা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মন্দিরে বিগ্রহ দর্শন করেন এবং নির্মিয়মান মন্দির পরিদর্শন করেন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রথযাত্রা উৎসবের প্রাককালে নয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি উৎসব প্রাঙ্গণে পৌঁছলে সমবেত জনতা মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, বিশিষ্ট সমাজসেবী কিশোর বর্মণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন মেলাঘর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনামিকা ঘোষ পাল রায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সিপাহীজলা জেলার জেলাশাসক বিশ্বশ্রী বি৷
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী দেবব্রত ভট্টাচার্য, জগন্নাথ সেবা কেন্দ্রের সচিব জয়ন্ত সাহা। উৎসবের উদ্যোক্তা মেলাঘর পুর পরিষদ এবং তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর৷