শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর খুন, মৃত্যুদণ্ডের সাজা লিখে কলম ভাঙলেন খোয়াইয়ের বিচারক

স্টাফ রিপোর্টার, খোয়াই/তেলিয়ামুড়া, ২৯ জুন।। পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করার চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক মামলার একমাত্র অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করলো খোয়াইয়ের জেলা আদালত।

খোয়াই জেলা আদালতের ইতিহাসে এই ধরনের সাজা পূর্বে কোনদিন হয়নি। বুধবার রাত সাতটা পঁয়ত্রিশ মিনিটে জেলা আদালতের বিচারক শংকরী দাস রায় প্রদান করে স্বাক্ষর করার পর প্রথাগত নিয়ম অনুসারে তার হাতের কলম ভেঙে এজলাশ ত্যাগ করেন।

রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১সালের ২২শে ফেব্রুয়ারী।তেলিয়ামুড়া থানাধীন দুস্কি গ্রামের এক পরিবারের পাঁচ বছরের শিশুকন্যা নিখোঁজ হয়ে যায়। পাঁচ দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করে শিশুটির পরিবার থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারী থানায় নিখোঁজ ডাইরী করেন। পুলিশ শিশুকন্যাটির সন্ধানে তল্লাশি অভিযানে নামে।

রাতেই সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ কালী কুমার ত্রিপুরা ওরফে অভিজিৎ নামে দুস্কি এলাকার জনৈক ব্যাক্তিকে বাড়ী থেকে তুলে এনে নিখোঁজ শিশুটির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। প্রথমে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও পরে একসময় পুলিশের জোর জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়ে কালী কুমার(৩৫)।সে তার কৃতকর্ম স্বীকার করে জানায় যে, শিশুটিকে সে ধর্ষণ করে খুন করে একটি জংগলে গাছের সাথে মৃতদেহটি বেঁধে রেখে দিয়েছে।

পুলিশ রাতেই কালী কুমার ত্রিপুরাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন তার জবানবন্দি অনুসারে তাকে সাথে নিয়েই জঙ্গল থেকে একটি গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় শিশুকন্যার মৃতদেহটি উদ্ধার করে। যথারীতি হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়। মৃতদেহের বিভিন্ন অংশের ফরেনসিক পরীক্ষাও হয়।

পুলিশ ধৃত কালী কুমার ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির 376 (A)(B)/302/201 ধারায় ও পকসো আইনের 6 নং ধারায় মামলা লিপিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করে। তখন থেকেই ধৃত কালী কুমার ত্রিপুরা জেলে বন্দি। তাকে জেলে রেখেই চলে মামলার পুরো বিচার প্রক্রিয়া। তেলিয়ামুড়া থানায় মামলার নাম্বার হলো ২৬/২০২১।

তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই বিদ্যেশ্বর সিনহা ২০২১সালের ২৫শে মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর আদালতে শুরু হয় মামলার শুনানী। মোট ৩৫জন আদালতে মামলার শুনানীতে সাক্ষ্য দেন।আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয় কালী কুমার ত্রিপুরা ওরফে অভিজিৎ।

বুধবার খোয়াই জেলা আদালতের বিচারক শংকরী দাস পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করার মামলার রায় প্রদান করে অপরাধী কালী কুমার ত্রিপুরা (৩৫)কে মৃত্যদন্ডে দন্ডিত করেন। আদালতে সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ পি পি অজিত সরকার।

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?