অনলাইন ডেস্ক, ১২মে।। রাষ্ট্রদোহ আইন নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত স্থগিত রাষ্ট্রদোহ আইন। এই নির্দেশের ফলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুনর্বিবেচনা না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রদোহ আইনে নতুন কোনও মামলা রুজু করা যাবে না। বুধবার এমনটাই নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রাষ্ট্রদোহ আইনে মামলা রুজু থাকলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না কেন্দ্র ও রাজ্য। ১৬২ বছর পরে স্থগিত রাষ্ট্রদোহ আইন। এই বিষয় কি বললেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একনজরে
রাহুল গান্ধী: সত্যি বললেই সেটা বিদ্রোহ নয়। আবার সত্যি কথা বলার অর্থই সেটা বিশ্বাসঘাতকতা নয়। সুপ্রিম কোর্টের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। টুইট রাহুল লেখেন, তসত্য বলা দেশপ্রেম, রাষ্ট্রদ্রোহ নয় এবং সত্য শোনা রাজধর্ম, সত্যকে চূর্ণ করা অহংকার। ভয় করো না।
মহুয়া মৈত্র: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এটাকে জয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি দুর্দান্ত দিন। কেন্দ্র বলেছে আবার এটা পুর্নবিবেচনা করব। সুপ্রিম কোর্ট বুঝে গিয়ে বলেছে, যে তোমরা পুর্নবিবেচনা করো, কিন্তু যতক্ষণ না করছ ততদিন এই আইনটা থাকতে পারে না।
প্রশান্ত ভূষণ: রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের ব্যাপক অপব্যবহার রোধ করার জন্য এই সূক্ষ্ম অন্তর্বর্তী আদেশের জন্য সুপ্রিমকে স্যালুট।
সীতারাম ইয়েচুরি: সিপিএম সর্বদা রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের বিরোধিতা করেছে। এই আইন নৈরাজ্যবাদী। তা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে চূর্ণ করার জন্য ব্রিটিশরা এনেছিল। স্বাধীন ভারতে আইনের বইতে এর কোনও স্থান নেই। এটা ভাল যে সুপ্রিম কোর্ট এখন আদেশ দিয়েছে যে এই ধারাটি স্থগিত করতে হবে। ২০১৪ সাল থেকে সমস্ত ভিন্নমতকে হয়রানি করার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের ব্যাপকভাবে অপব্যবহার হয়েছে।
অশ্বিনী কুমার: ঐতিহাসিক আদেশকে স্বাগত জানাচ্ছি। কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে এর অধীনে কোনও এফআইআর নথিভুক্ত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
মেহবুবা মুফতি: আমাদের দেশ যদি ছাত্র, কর্মী এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ অব্যাহত রাখে, তাহলে আমাদের অবস্থা শ্রীলঙ্কার চেয়েও খারাপ হবে। আমি আশা করি বিজেপি প্রতিবেশী দেশ থেকে শিক্ষা নেবে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা বন্ধ করবে।