অনলাইন ডেস্ক, ১মার্চ ।। ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে রাশিয়ার সকল ফুটবল ক্লাব ও জাতীয় দলকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা ও উয়েফা।
বিশ্ব ফুটবল ও ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুই-ই জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এর অর্থ রাশিয়া পুরুষ ফুটবল দল মার্চেই হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্লে-অফ পর্বে খেলতে পারবে না। আর নারী দল চলতি গ্রীষ্মেই ইউরো কাপে নিষিদ্ধ থাকবে।
স্পার্তাক মস্কো ছিটকে যাবে ইউরোপা লিগ থেকে। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী লাইপজিগ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে।
এদিকে উয়েফা রাশিয়ার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রোমের সঙ্গ স্পনসরশিপ চুক্তি ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা জাতীয় দলের প্রতিযোগিতা এবং উয়েফা ইউরো ২০২৪-সহ সব চুক্তি এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে।
যৌথ বিবৃতিতে ফিফা ও উয়েফা জানায়, ‘ফুটবল এখানে সম্পূর্ণভাবে একত্রিত এবং ইউক্রেনে ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।’
‘দুই সভাপতিই আশা করছেন, ইউক্রেনে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি হবে, যাতে ফুটবল আবার শুরু হয়, ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি এবং ঐক্য ফিরে আসে।’
এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সব আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠনগুলির কাছে আর্জি জানিয়েছিল, রাশিয়া এবং বেলারুশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং দলগুলোকে যত দূর সম্ভব যেন বহিষ্কার করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রাশিয়াকে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা এবং উয়েফা।
এর আগে রাশিয়াকে নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা। তার বলেছিল, রাশিয়াকে তাদের সব ফুটবল ম্যাচ নিরপেক্ষ দেশের ব্যানারে খেলতে হবে। তারা নিজেদের জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীত ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু ফিফার এই সিদ্ধান্ত প্রায় কোনো দেশই মানতে পারেনি।
ইংল্যান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, রাশিয়ার বিপক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলবে না তারা। ইংল্যান্ডের এই ঘোষণার আগেই রাশিয়ার সঙ্গে না খেলার কথা জানিয়েছিল পোল্যান্ড, সুইডেন এবং চেক প্রজাতন্ত্র।
ফিফা কী ভাবে রাশিয়াকে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলার অনুমতি দিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন পোল্যান্ডের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। ফুটবল থেকে রাশিয়াকে নির্বাসিত করার দাবিও করেছিল পোল্যান্ড।
পোল্যান্ড খেলতে অস্বীকার করার পর চেক প্রজাতন্ত্র এবং সুইডেনও জানিয়ে দিয়েছিল, ফিফার নির্দেশ মেনে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই তিন দেশই এক সঙ্গে ফিফাকে অনুরোধ করেছিল, রাশিয়াকে প্রতিযোগিতা থেকেই বহিষ্কার করার জন্য। সেই পর্যন্ত সে পথেই হাঁটল ফিফা ও উয়েফা।