স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৪ ফেব্রুয়ারী।। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অত্যাধুনিক পরিকাঠামোর ছোঁয়ায় উন্নত ও জটিল রোগের চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন রাজ্যের মানুষ। উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি আশাকর্মীদের গুরুত্বও অনস্বীকার্য।
সুস্থ ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা এই ভাবনাকে সামনে রেখে অ্যানিমিয়া ও টিবি মুক্ত রাজ্য গড়তে বিভিন্ন পরিকল্পনা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আজ আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অ্যানিমিয়া ও টিবিমুক্ত ত্রিপুরা গড়তে পক্ষকালব্যাপী বিশেষ অভিযান এবং ইনটেনসিফাইড পালস পোলিও ইমিউনাইজেশনের রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
ত্রিপুরাকে টিবিমুক্ত করতে ২ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পক্ষকালব্যাপী বিশেষ অভিযানে আশা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে টিবি রোগী সনাক্তকরণ এবং চিহ্নিত ব্যক্তিদের পরবর্তী চিকিৎসা প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তিনজন শিশুকে পোলিওর ডোজ খাইয়ে দেন এবং একজন গর্ভবতী মা সহ বেশ কয়েকজনের হাতে ফলের প্যাকেট তুলে দেন। এদিন যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণের মাধ্যমে টিবি থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া ১০ বছরের সৃষ্টি দে ও সন্দীপ বোসকে সংবর্ধিত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তার পাশাপাশি ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স স্ট্যান্ডার্ড জাতীয়স্তরের মানাতা প্রাপ্ত রাজ্যের ৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সংবর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষের সার্বিক কল্যাণে এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার।
স্বাস্থ্য ও অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারী ব্যক্তিদের যথার্থ উৎসাহ প্রদান করা গেলে সাফল্য অনিবার্য। তার অন্যতম দৃষ্টান্ত সম্প্রতি রাজ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ওপেন হার্ট সার্জারি থেকে শুরু করে নিউরো, অর্থো, কার্ডিও সহ বিভিন্ন বিভাগে একাধিক সাফল্যের নজির। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সদিচ্ছা থাকলে প্রতিবন্ধক জয় করে সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। যার অন্যতম নিদর্শন এই সাফল্যগুলি।
রাজ্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজ্য থেকে বহির্রাজ্যে কর্মরত বিশিষ্ট চিকিৎসকরাও রাজ্যমুখী হচ্ছেন। বিগত দিনে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে রাজ্যের দাবি আদায়ে আন্তরিকতার ঘাটতি ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন রূপরেখার জন্য অনেকাংশেই পরিষেবা প্রদানে ও পরিকাঠামোর কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে।
কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কার্যপ্রণালী রূপায়ণের ফলে সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা সম্ভবপর হচ্ছে। বিনা আন্দোলনেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশের মানুষের সমস্যাগুলির সম্মানজনক সমাধান করছে রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উত্তর পূর্বের বিকাশে আন্তরিকতা ও দিশা নির্দেশনায় এই অঞ্চলের প্রতিটি রাজ্য সম্মিলিতভাবে বিকাশের পথে অগ্রসর।
আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আরও ৭০ হাজার ঘর বন্টনের পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে স্বাস্থ্য পরিষেবার সফল বিকেন্দ্রীকরণে আশাকর্মীরা নিষ্ঠাপূর্বক তাদের দায়িত্ব প্রতিপালন করে চলেছেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনহিতকর বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করার ক্ষেত্রে আশাকর্মীরা বিশেষ ভূমিকা নিতে পারেন বলে আশা ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা বলেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে রাজ্য সরকার।
শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েও মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব সুস্থ কৈশোরের মতো বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় টিকা প্রতিষেধক গ্রহণ থেকে যেসব ছেলেমেয়েরা বিচ্যুত হচ্ছে তাদের প্রত্যেকের কাছে এই সুযোগ পৌঁছে দিতেও রাজ্যব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন অধিকর্তা সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. শুভাশিস দেববর্মা, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা চাঁদনী চন্দ্রন প্রমুখ।