অনলাইন ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারী।। সব্যসাচী— যার দু’হাত সমানতালে চলে। ‘যার দুই পা সমানতালে চলে’, তাকে কোন সম্বোধনে ডাকা হয়? জেমস মিলনার তেমন এক ফুটবলার; দুই পা সমানতালে তো চালাতে পারেন, খেলতে পারেন প্রায় সব পজিশনেই।
মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ; রক্ষণভাগেও সমান পারদর্শী তিনি। যাকে বলে, একেবারে ‘ভার্সেটাইল’। যার ফলে মিলনারের সঙ্গে মিডফিল্ডার নাকি উইঙ্গার লেখা হবে, তা নিয়েই ধন্দে পড়তে হয়। তবে যে পজিশনেই খেলুক না কেন, বয়স মধ্য তিরিশের ঘরে পৌঁছে গেলেও কোচের অন্যতম ভরসার নাম মিলনার।
লিভারপুলের কোচ ইউর্গেন ক্লপেরও ‘শেষ কয়েক মিনিটের’ আস্থার নাম— মিলনার। সাম্প্রতিক সময়ে একাদশে তেমন সুযোগ না হলেও লিড ধরে রাখার জন্য শেষ কয়েক মিনিটের জন্য দলের নির্ভরযোগ্যদের একজন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষেও এই ভূমিকায় দেখা গেছে ৩৬ বছর বয়সী তারকাকে। এই ম্যাচ দিয়ে পেশাদারি ক্যারিয়ারের ৮০০তম ম্যাচে খেলার মাইলফলকে উঠেছেন মিলনার।
অনেকে ভাবছেন, এবার হয়তো থামবেন ‘অক্টোপাস’ খ্যাত এই তারকা। কিন্তু তাদের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ক্লপের দাবি, এখনই অবসর নিচ্ছেন না তার প্রিয় শিষ্য মিলনার।
অ্যানফিল্ডের জার্মান কোচ বলেন, ‘আগামী বছরে তার অবসর নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সে এখনো খেলতে মরিয়া। আমি তা বুঝি।’দুই দশক ধরে শীর্ষ পর্যায়ে খেলছেন মিলনার।
২০০২ সালের নভেম্বরে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয় তার। তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর ৩০৯ দিন। এরপর এখন পর্যন্ত লিভারপুলের হয়ে ২৭৫, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২০৩, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জার্সিতে ১৩৬, অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ১২৬, লিডসের হয়ে ৫৪ ও সুইনডন টাউনের হয়ে ৬ ম্যাচ খেলেছেন।
প্রতি মৌসুমে গড়ে ৪০ ম্যাচ খেলেছেন মিলনার। পেশাদারি ক্যারিয়ারে ২০ মৌসুম কাটাচ্ছেন তিনি। জিতেছেন একটি করে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ।
তার এই সব অর্জন অলরেডদের হয়ে। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে দুটি প্রিমিয়ার লিগ এবং একটি করে এফএ কাপ, লিগ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতেছেন এই তারকা।