অনলাইন ডেস্ক, ৯ ফেব্রুয়ারী।। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের বিভিন্ন দপ্তরে যৌন হেনস্তার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ঠিক এক বছর আগে প্রথম ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন পার্লামেন্টেরই এক কর্মী, ব্রিটনি হিগিনস। খবর: আল-জাজিরার। তার দেখাদেখি পার্লামেন্টের আরও কয়েক জন নারী কর্মী যৌন হেনস্তা ও কর্মক্ষেত্রে তাদের অনবরত বিব্রত করার অভিযোগ আনেন। যা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয় অস্ট্রেলিয়া জুড়ে। চাপে পড়ে মরিসনকে একাধিক তদন্তের নির্দেশও দিতে হয়।
পার্লামেন্টে দাঁড়িয়েই মঙ্গলবার ব্রিটনির কাছে স্কট সবার হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, যৌন হেনস্তার শিকার হওয়া বাকি নারীদের কাছেও ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমি ক্ষমাপ্রার্থী মিস হিগিনসের কাছে। এখানে তার যা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে তা ভাবা যায় না। সেই সঙ্গে আমি ক্ষমাপ্রার্থী তাদের কাছেও, যারা হিগিনসেরও আগে এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। ’
২০১৯ সালে এক মন্ত্রীর দপ্তরে ব্রিটনিকে ধর্ষণ করেছিল তারই এক সহকর্মী। ব্রিটনির অভিযোগ, তাকে পুলিশের কাছে যেতে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক বছর পরে নিজের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন ব্রিটনি। তার দেখাদেখি পার্লামেন্টের আরও অনেক নারী কর্মী নিজেদের হেনস্তার অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। মরিসনের সঙ্গে ব্রিটনির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা লেবার পার্টির অ্যান্টনি অ্যালবানিজও।
ব্রিটনির উদ্দেশে তাকে বলেছেন, ‘নীরবতার সংস্কৃতিকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন আপনি। ’নারীদের ওপরে চালানো যৌন নির্যাতন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরকার যে কয়টা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম জেনকিন্স রিভিউয়ের সাড়ে চারশো পাতার রিপোর্ট। ওই রিপোর্টে ওঠে আসে, অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত নারীদের এক-তৃতীয়াংশ কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত যৌন হেনস্তার শিকার হন।