অনলাইন ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারী।। চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের স্বাধীনতাপন্থী উইঘুর মুসলিমদের উপর চীনা সেনাদের অত্যাচারকে সমর্থন জানাচ্ছে তালেবান। এই অভিযোগ তুলে এবার আফগানিস্তানের নতুন শাসকদের হুঁশিয়ারি দিল ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ (আইএসকে)। উইঘুর মুসলিমদের গণহত্যাকে ‘চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে চিহ্নিত করে তালেবান ‘ইসলামবিরোধী’ কাজ করেছে বলে শুক্রবার আইএস-এর আফগান শাখার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইরান এবং রাশিয়াও একই ধরনের গণহত্যা চালাচ্ছে বলে সংগঠনের প্রচারশাখা ‘ভয়েস অফ খোরাসান’-এর অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার আশাতেই শিনজিয়াংয়ে মুসলিম গণহত্যায় সমর্থন জানাচ্ছে তালেবান। ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বর্তমান পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তানের একাংশ নিয়ে ছিল প্রাচীন খোরাসান অঞ্চল। আইএস-এর আফগান শাখা ওই অঞ্চলকে তাদের নামে জুড়ে নিয়েছে। গত কয়েক বছরে একাধিক বার আফগানিস্তানে নানা নাশকতায় আইএস-কের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। গত বছর কাবুল বিমানবন্দর এবং একাধিক তালেবান ঘাঁটিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা। মূল সংগঠন আইএস-এর মতোই তাদের লক্ষ্য খিলাফতের (খলিফার শাসন) পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ২০১৪ সালে পাকিস্তান তালেবান নেতা হাফিজ সাইদ খান আইএস-কে গঠন করেছিলেন। তৎকালীন আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির অনুগামী হাফিজ ২০১৬ সালে আমেরিকার বিমান হানায় নিহত হন। পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার, নুরিস্তান, কুনার প্রদেশ আইএস-কে এর ঘাঁটি। রাজধানী জালালাবাদ-সহ নানগারহারের বেশ কিছু এলাকায় শিবির রয়েছে তাদের। আইএস-কে ধ্বংস করতে ওই এলাকায় একাধিক বার হানা দিয়েছে আমেরিকার ড্রোন। একই উদ্দেশ্যে একাধিক বার অভিযান চালিয়েছে তালেবান বাহিনীও। বুধবার মধ্যরাতে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার আতমেহ শহরে মার্কিন সেনাদের অভিযানে আইএস প্রধান আবু ইব্রাহিম অল-হাশিমি অল-কুরেশির মৃত্যু হয়। তার পরেই এই জঙ্গি সংগঠনের আফগান শাখার এই হুঁশিয়ারি এলো।