স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি।। হৃদরোগের চিকিৎসায় এজিএমসি অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে নজির সৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এজিএমসি অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জারি অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি (সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর) ডিপার্টমেন্টের কনসালটেন্ট অ্যান্ড ইনচার্জ কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ কনক নারায়ণ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি টিম গত ২৮ জানুয়ারি সিএবিজি (করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং) সার্জারির ইতিহাস গড়লেন। উল্লেখ্য, এজিএমসি অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের সিটিভিএস অ্যান্ড আইআর ডিপার্টমেন্টে সাফল্যের সঙ্গে গত ২০ জানুয়ারি প্রথমবার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়।
অমরপুরের বাসিন্দা ৩৮ বছরের এই যুবক বুকে ব্যাথা ও হার্ট অ্যাটাক নিয়ে গত বছর ৯ ডিসেম্বর ভর্তি হন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর সিটিভিএস ক্যাথ ল্যাবে ১৫ ডিসেম্বর চিকিৎসকরা অ্যাঞ্জিওগ্রাম করে তার হার্টের করোনারি ধমনীতে গুরুতর ব্লকেজ সনাক্ত করেন এবং করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিংয়ের পরামর্শ দেন।
সে অনুসারে গতকাল সুদীর্ঘ ছয় ঘন্টা ব্যাপী এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এই অপারেশনে ব্লাড ট্রান্সফিউশনের কোনও প্রয়োজন হয়নি। কারণ, এই প্রথম ত্রিপুরায় সেল সেভার মেশিন ব্যবহার করে রক্তের অটো ট্রান্সফিউশন করা হল। ফলে রোগীর শরীর থেকে বিন্দুমাত্র রক্তের অপচয় হয়নি।
অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছিলেন ডাঃ সুরজিৎ পাল। পারফিউসানিস্ট (হার্ট-লাং যন্ত্র পরিচালক) সুজন সাহু, ফিজিসিয়ান অ্যাসিসটেন্ট সুদীপ্ত মন্ডল, স্ক্রাব নার্স জাহির হুসেন, অর্পিতা সরকার, সৌরভ শীল, মৌসুমী দেবনাথ, অন্ন বাহাদুর জমাতিয়া, প্রাণকৃষ্ণ দেব, ওটি অ্যাসিস্ট্যান্ট রতন মণ্ডল, জয়দীপ চক্রবর্তী, অমৃত মুড়াসিং, কোর্ডিনেটর অভিষেক দত্ত, রিচাশ্রী সরকার, জেমসন দেববর্মা, কিষাণ রায় ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও ছিলেন। রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। গভীর রাতে তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। আইসিইউ কেয়ারে নিয়োজিত ছিলেন মিনহাজুদ্দিন আহমেদ, আসরাফুল গোলদার এবং সত্যজিৎ দেবনাথের নেতৃত্বে নার্সগণ।
বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এপিএল পরিবারভুক্ত হওয়ায় তার চিকিৎসার আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার তাকে বহন করতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালের চাইতে অনেক কম খরচে তার এই অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানিয়েছেন।