স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৬ জানুয়ারি।। আজ আগরতলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করা হয়। সকালে বিধানসভা ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী। মহাকরণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ গান্ধীঘাটে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে জাতিরজনক মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি লিচুবাগানস্থিত অ্যালবার্ট এক্কা পার্কে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
আজ সকালে সরকারি বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। পতাকা উত্তোলনের পর বিধানসভা ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনীর জওয়ানরা কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন।
বিধানসভার অধ্যক্ষ শ্রীচক্রবর্তী সমবেত কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারির এই দিনে দেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
এরপর থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের মৌলিক অধিকার এবং তার সুরক্ষা কবজ সবকিছু সংবিধানে উল্লেখিত আছে। তিনি বলেন, শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন সমস্ত মানুষের অধিকারগুলি সুরক্ষিত হয়। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত আধিকারিক সহ সাধারণ কর্মীদের নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্রে নাস্ত দায়িত্বগুলি যথাযথভাবে সময়ের মধ্যে পালন করার জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্মবলিদানকারী জানা অজানা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ার স্বপ্ন নিয়ে সকলকে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে ত্রিপুরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সমস্ত দিক থেকে নিজেকে তৈরি করে নিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিধানসভার সচিব বিষ্ণুপদ কর্মকার, অতিরিক্ত সচিব সুবিকাশ দেববর্মা সহ অন্যান্য আধিকারিক কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সচিবালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ দেশের সংবিধান ও সংবিধান প্রণেতাদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ স্বাধীনতা পেলেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি ছিলো না। ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর দেশের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছিলো।
তাই প্রতিবছর ২৬ নভেম্বর দিনটি আমরা সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করে থাকি। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশের সংবিধান বিধিবদ্ধভাবে কার্যকর হয়েছিলো। সেই দিনটিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতেই প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে দেশব্যাপী প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকার রক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ থাকলেও দেশে কখনও কখনও সেই অঙ্গীকার রক্ষার সংকট দেখা দিয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে দেশের জনগণের মানসিকতা, দেশভক্তি ও দেশপ্রেমের নতুন এক প্রভাব তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সংবিধানের সাংবিধানিক বিভিন্ন মূল্যবোধ যেমন সার্বভৌমত্ব, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্র, নায় বিচার, সাম্য, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রকৃত মানব কল্যাণে সর্বাধিক গুরুত্ব লাভ করেছে।
তিনি বলেন, ভারত বহু ভাষাভাষীর দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম বর্ণ সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছেন। জনগণের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বৈচিত্র থাকলেও একজাতি একপ্রাণ একতা জাতীয় আদর্শ হিসেবে সুদীর্ঘ অতীত কাল থেকেই বিবেচিত হয়ে আসছে। এই আদর্শকে আরও সুদৃঢ় করতে সকলকে আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আগরতলার গান্ধীবাটে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ। গান্ধী বিকাশ সমিতি ও সদর মহকুমা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আজ সকালে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গান্ধীঘাটে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পুরপারিষদ তুষার কান্তি ভট্টাচার্য, সদর মহকুমা শাসক অসীম সাহা সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকগণ। শ্রদ্ধা অর্পণ শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, সারা দেশ আজ এই মহান দিনটি উদযাপন করছে। ভারত এমনই একটি দেশ যেখানে গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মেলবন্ধ রয়েছে। এই দিনটিকে প্রত্যেক ভারতবাসী হিসেবে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করি। দেশের সংবিধান প্রণেতাদের উদ্দেশ্যেও এদিন শ্রদ্ধা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
সকালে অ্যালবার্ট এক্কা পার্কের শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে দেশের শহীদ ও বীর জওয়ানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ। এরপর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সৈনিক কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা তথা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জে পি তিওয়ারি, সদর মহকুমা শাসক অসীম সাহা, সৈনিক কল্যাণ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে টিএসআর-১১ নং ব্যাটেলিয়নের হাবিলদার মুকেশ মজুমদারের নেতৃত্বে জওয়ানগণ বিউগল বাজিয়ে শহীদ বীরজওয়ানদের প্রতি সেলামি প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশের জনগণ ও রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমাদের এই মহান দেশের জন্য আমরা গর্ববোধ করি।