স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২১ জানুয়ারী।।ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১নং প্রেক্ষাগৃহে রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে পূর্ণরাজা দিবস সম্মাননা হিসেবে নাগরিক পুরস্কার ও পূর্ণরাজ্য দিবস পুরস্কারে সম্মানিত করা হলো বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ অবদান রাখায় তাঁদেরকে সম্মানিত করা হয়। এবার ত্রিপুরা বিভূষণ সম্মান পেয়েছেন রাজ্যের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. প্রতাপ সান্যাল।
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব অনুষ্ঠানে ডা. প্রতাপ সান্যালের হাতে ত্রিপুরা বিভূষণ সম্মান তুলে দেন। সম্মাননা হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা, স্মারক, মানপত্র ও উত্তরীয়। সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট সমাজসেবী হেলেন দেববর্মাকে ত্রিপুরা ভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। সম্মাননা হিসেবে তাঁর হাতে ২ লক্ষ টাকা, স্মারক, মানপত্র ও উত্তরীয় তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
নাগরিক পুরস্কারের মধ্যে সঙ্গীত জগতে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট গীতিকার সুবিমল ভট্টাচার্যকে শচীন দেববর্মণ স্মৃতি সম্মান প্রদান করা হয়। তাঁকে সম্মাননা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা। জনজাতি মহিলাদের আত্মনির্ভর করতে বিশেষ অবদান রাখায় দীপালি দেববর্মাকে দেওয়া হয় মহারাণী কাঞ্চনপ্রভা দেবী স্মৃতি সম্মান।
তাঁকে সম্মাননা জ্ঞাপন করেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা। পরিবেশ বান্ধব এলইডি বাল্ব উদ্ভাবনের জন্য আশার আলো স্বসহায়ক দলের সদস্যা তানিয়া সাহাকে দেওয়া হয় বিজ্ঞান ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য রাজ্য পুরস্কার। সম্মাননা হিসেবে তাদেরকে ১ লক্ষ টাকা, স্মারক, মানপত্র ও উত্তরীয় দেওয়া হয়।
ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্য দিবস উপলক্ষে নাগরিক সম্মানের পাশাপাশি আরও ১০ জনকে পূর্ণরাজ্য দিবস পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পূর্ণরাজ্য দিবস পুরস্কার হিসেবে সামাজিক কাজকর্মে বিশেষ ভূমিকা রাখায় এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক অন্তরা নাহাকে সুনাগরিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ণ প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। স্টার্ট-আপ এন্টারপ্রেনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় বেস্ট স্টার্ট-আপ এন্টারপ্রেনার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আহরণ এডুস্মার্ট প্রাইভেট লিমিটেডকে। এই সংস্থার প্রতিনিধির হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তী।
উদ্যান পালনে কুল চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ায় কৃষি/ উদ্যান পুরস্কার দেওয়া হয় বিক্রমণ্ডিত চাকমাকে। বিক্রমজিতের হয়ে তাঁর ভাইয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়। উন্নত প্রথায় মৎস্য চাষে সাফল্য পাওয়ায় পুরস্কৃত করা হয় রাজশেখর দাসকে। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন খাদ্য মন্ত্রী মনোজকান্তি দেব।
শূকর পালনে বিশেষ সাফল্য অর্জন করায় প্রাণী পালনে সম্মান প্রদান করা হয় মৃণাল কান্তি দাসকে। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ। হস্তকারু শিল্পে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য রীমা দেববর্মাকে গ্রামীণ শিল্প (হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্প, মৌমাছি পালন) পুরস্কার দেওয়া হয়। তাকে সম্মানিত ও পুরস্কৃত করেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া।
শিল্প উদ্যোগী ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য মেসার্স আনন্দ স্পাইসেস ইন্ডাস্ট্রির হাতে শিল্প উদ্যোগী তুলে দেন সমবায় মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল। কর্ম বিনিয়োগ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য টকেন অনলাইন লার্নিং সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিনিধির হাতে বেস্ট মোবাইল অ্যাপ পুরস্কার তুলে দেন শ্রম মন্ত্রী ভগবান চন্দ্র দাস।
জীবন জীবিকার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় দলদলি ল্যাম্পস লিমিটেডের হাতে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অভিজিৎ ভট্টাচার্যকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ পুরস্কার প্রদান করা হয়। মুখ্যসচিব কুমার অলক তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পূর্ণরাজ্য দিবস পুরস্কার হিসেবে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার টাকা, স্মারক, মানপত্র ও উত্তরীয়।