স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৭ জানুয়ারি।। রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন বিদ্যালয়গুলিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এনএসএস বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। ভাবিপ্রজন্মের সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সম্প্রসারণ করছে রাজ্য সরকার। আজ যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে যুব সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২১-২০২২ ও মেগা রক্তদান শিবির অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১নং প্রেক্ষাগৃহে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই রক্তদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। এর পর বিগত বছরগুলিতে ক্রীড়া ও সেবামূলক ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রাখার জন্য জাতীয় ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কৃতদের সম্মাননা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এনএসএস-এর মত কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সেবামূলক মানসিকতা তৈরীর লক্ষ্যে, দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে সীমান্ত সংলগ্ন সমস্ত বিদ্যালয়গুলিতে এনএসএস বাধ্যতামূলক ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ছাত্র জীবনের অত্যাবশ্যকীয় প্রবাহমান ঘটনাবলী ও পারিপার্শিক শিক্ষাবিষয়ক কর্মসূচি সম্পর্কে পড়ুয়াদের সজাগ দৃষ্টি থাকা আবশ্যক। মিশন ১০০ বিদ্যাজ্যোতি স্কুলস পরিকল্পনা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে চলেছে।
ত্রিপুরার ক্ষেত্রে এর সফল বাস্তবায়ণে বিভিন্ন শর্তাবলী শিখীলিকরণ সহ একাধিক ক্ষেত্রে আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গী রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিয়োগ থেকে শুরু করে সমস্ত সুযোগ সম্প্রসারণে স্বচ্ছতার পাশাপাশি মহিলা স্বশক্তিকরণ, সামাজিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে রাজ্য সরকার। মহিলাদের রোজগার সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গুচ্ছ পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে।
১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের কোভিডের টিকাকরণ কর্মসূচির সুফল গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বদেশীকতা, ঐতিহ্য ও পরম্পরার সমন্বয়ে দৃঢ় মানসিকতা ও কর্মনিষ্ঠা সাফল্যের পথে গতি সঞ্চারিত করে।
ছেলেমেয়েদের কর্মমুখী ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব বলেন, যুব সম্প্রদায়কে জীবনের সঠিক পাঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে সৃজনশীল কর্মকান্ডের সাথে আরও বেশী করে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক।
ক্রীড়া ও সেবামূলক ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলিতে জাতীয় ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের সম্মাননা জ্ঞাপনের প্রচেষ্টা এক উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। তা অন্যদের মনে অনুপ্রেরণার সঞ্চার করবে। তিনি বলেন, নেশামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য সরকার। ছেলেমেয়েদের সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে খেলাধূলার সাথে আরও বেশী করে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
তার পাশাপাশি রক্তদানের মত সেবামূলক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, যুব সম্প্রদায়ের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নেশা ও নেশা কারবারীদের নির্মূলীকরণে কাজ করছে রাজ্য সরকার।
এক্ষেত্রে আগামীদিনে ক্লাবগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বড়মাত্রায় জনজাগরণ তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা ও মহকুমান্তরে কর্মসূচির বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বেশী করে মানুষকে এর সম্পর্কে সচেতন করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের সেবার মাধ্যমেই ঈশ্বর সেবা বলে আমাদের বিশ্বাস।
স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ পথে ও সেবামূলক ভাবনায় এনএসএস সহ সেবামূলক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এক মহতী কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। তিনি বলেন, এখনই সঠিক সময়। এই ছাত্রজীবন থেকেই সেবামূলক ভাবনায় মানুষের তরে কাজের মানসিকতা নিয়ে কাজ করা আবশ্যক।
সেবামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বামীজী যেভাবে যথার্থ মানব ধর্ম পালনের পথ প্রদর্শন করে গেছেন তা অনুকরণীয়। আজ এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব শরদিন্দু চৌধুরী, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা সুবিকাশ দেববর্মা প্রমুখ।