অনলাইন ডেস্ক, ৩০ ডিসেম্বর।।করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক দুই ধরন- ওমিক্রন আর ডেল্টায় বিশ্বজুড়ে সংক্রমণের ‘সুনামি’ সৃষ্টি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও।
যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপজুড়ে একদিনে রেকর্ড নতুন রোগী শনাক্তের খবরের মধ্যেই বৈশ্বিক সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এ উদ্বেগ জানান।
তিনি বলেছেন, ‘এই বিপুল সংক্রমণ ভয়ঙ্কর চাপ সৃষ্টি করছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিপর্যস্ত করে ফেলছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার দশা তৈরি হচ্ছে। ’
ওয়ার্ল্ডোমিটারের বৃহস্পতিবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে প্রায় ১৬ লাখ সাড়ে ৪ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৭ হাজার ৩১৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ১ হাজার ৭৭৭ জন।
ফ্রান্সে দৈনিক সংক্রমণ ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যে একদিনে ১ লাখ ৮২ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
মাত্র এক মাস সময়ের মধ্যে বিশ্বের বহু দেশে প্রাধান্য বিস্তার করা করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনটি আগের ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার চেয়ে কম গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি করে বলে প্রাথমিক গবেষণায় তথ্য এসেছে।
কিন্তু দুই ডোজ টিকা এ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারছে না বলে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বিদ্যুৎগতিতে, যা দিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
ধনী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের কোভিড টিকার তৃতীয় ডোজ দিচ্ছে বুস্টার হিসেবে। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে তাদের ১২ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের ৫৭ শতাংশকে তৃতীয় ডোজ দিয়ে ফেলেছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান মনে করেন, ধনী দেশগুলোর বড় পরিসরে এই বুস্টার ডোজ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত মহামারীকে দীর্ঘায়িতই করবে।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তৃতীয় ডোজ যোগাতে গিয়ে গরিব দেশগুলো টিকাবঞ্চিত থেকে যাবে, যেখানে টিকাদানের হার এমনিতেই কম। ফলে সেসব দেশে আরও বেশি ছড়ানোর এবং নতুন নতুন মিউট্যান্ট তৈরি করার সুযোগ পাবে ভাইরাস।
আগামী জুলাই মাসের আগেই জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনতে নতুন বছরের শুরুতে নতুন করে অঙ্গীকার নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গেব্রিয়েসুস।